
কামরুল হাসান, কলারোয়া থেকে: বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামীর প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের পর এবার ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৫০টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজ হাতে কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর কয়লা, ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা, ১১ নম্বর দেয়াড়া ও ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হবে। আগামী চার দিন এ কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, বৃক্ষপ্রেমী ইঞ্জিনিয়ার আসিফ ইকবাল চয়ন, কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহবায়ক এম এ সাজেদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, সাংবাদিক সহকারী অধ্যাপক কে এম আনিছুর রহমান, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন, মাওলানা আব্দুর রশিদ, ডা. রাকিব হুসাইন সজীব, এইচ এম আরিফ, আশিক বিল্লাহ শাহী, নাইম হাসান শাওন, ব্যাংকার মো.মুজিবুর রহমান, সামিউল আজম চঞ্চল, বিল্লাল হোসেন, আলি হাসান প্রমুখ।
বৃক্ষরোপণের বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” গাছগুলো বেড়ে উঠলে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন অতিথিবৃন্দ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কলারোয়ার সবুজায়ন আরও সমৃদ্ধ হবে এবং পরিবেশ রক্ষায় মানুষ উৎসাহিত হবে।
রোপণ করা চারাগুলো যাতে গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর কারণে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রতিটি চারার চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে চারাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলারোয়া উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। তাঁর রোপণ করা তালবীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় বছরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে তালবীজ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। ইতোমধ্যে ৩৬কিলোমিটার রাস্তার ধারে তিনি তালবীজ রোপন সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
পরিবেশবান্ধব এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের পাশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ-শ্যামল উপজেলা গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।

