
আব্দুল হাকিম: সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবন ঘেষা গ্রাম গুলোতে চিহ্নিত হরিণ শিকারী চক্র অতি সক্রিয়| সংঘবদ্ধ
শিকারীর দল সংশ্লিষ্ট বনঅফিসকে ম্যানেজ করে সুন্দরবনে প্রবেশ করে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার অব্যহত
রেখেছে| আবার কোন কোন সময় বনবিভাগের চোঁখ ফাকি দিয়ে শিকারীরা হরিণ শিকার করে বনেই
ছিলে কেটে গ্রামে এনে অতি গোপনে বিক্রি করছে| বনবিভাগের অভিযানে মাঝেমধ্যে দু’একটা
শিকারী ধরা পড়লেও অধিকাংশই থাকে অধরা| ফলে জীব-বৈচিত্র হুমকিতে| বনবিভাগ এ ব্যর্থতার দায়ভার
এড়াতে পারে না বে সুশীল সমাজের অভিমত।
সরেজমিনে সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯নং সোরা গ্রাম ঘুরে এলাকাবাসির
সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকাংশরাই জানান, শিকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে
নৌকা নিয়ে ভোররাতে সুন্দরবনে প্রবেশ করে হরিণ চলাচলের পথে ফাঁদ পেতে রাখে| এসময় শিকারীরা
একটু দূরে উঁচু গাছে উঠে নজর রাখে| একপর্যায়ে ফাঁদে হরিণ আটকে গেলে দ্রুত ঘটনা স্থল
থেকে হরিণ ধরে ফেলে| এবং জবাই করে বনেই ছিলে কুটে লোকালয় নিয়ে আসে এবং চাহিদা মত
গ্রাহকদের কাছে সরবারহ করে| বর্তমানে লোকালয়ে হরিণের মাংশ সাড়ে চারশত টাকা থেকে পাঁচশত
টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়।
সম্প্রতি কয়রা গ্রাম সংলগ্ন সুন্দরবনে শিকারীর ফাঁদে একটি হরিণ আটকা পড়ে| পরবর্তীতে
জানতে পেরে কাশিয়াবাদ বন টহলফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় একটি হরিণ উদ্ধার
করে| পরবর্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে হরিণটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়|
কাঠেশ্বর বন টহলফাঁড়ির ওসি আরাফাত জানান, সুন্দরবনে হরিণ শিকারীর চক্রের বিরুদ্ধে বনবিভাগের
অভিযান অব্যহত আছে| ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে একহাজার দুইশত ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ
উদ্ধার করা হয়েছে।
বুড়িগোয়ালীনি বনস্টেশন অফিসার (এসও) মোঃ এরফান উদ্দীন বলেন, গাবুরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে
রান্না করা পাঁচ কেজি হরিণের মাংশ উদ্ধার করা হয়েছে| তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি|
খুলনা বিভাগীয় বনসংরক্ষক (ডিএফও) এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে হরিণ শিকার বন্ধে
টহল জোরদার করা হয়েছে।

