
ডা. লিটন:সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, একটি মাছের ঘের জবরদখল, নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া, মাছ লুট এবং ঘেরের অবকাঠামো ভাঙচুরের অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে শ্যামনগর থানায় খলিশাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান মামলা দায়ের করেন।অভিযুক্তরা হলেন, আব্দুল মতিন সানা, আঃ করিম সানা, আঃ হাই সানা, দিদারুল ইসলাম সরদার, সিদ্দীক মীর, মোঃ মনিরুল সানা, সবুজ সানা, আবু বকর রাজ কুমার, আব্দুল্লাহ, তাসকিন, আবু তাহের, ইরশাদ, জাহাঙ্গীর, ইমরান, খোকন, আসাদুল, ইছা মোড়ল, সোহেল, কালাম ও সালাম। তারা সকলে খলিশাবুনিয়া ও খোলপেটুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বাদী মশিউর রহমান বলেন, তিনি ও তার কয়েকজন অংশীদার খলিশাবুনিয়া এলাকার একটি মাছের ঘের বৈধ লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছেন। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মতিন সানা, করিম সানা, হাই সানা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে ঘের দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে গত ২৮ জুন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মাছের ঘেরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা পুনরায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে থাকা মাছ বিক্রির নগদ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং আরও ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা বাকি চার লাখ ১৫ হাজার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে ঘের স্থায়ীভাবে দখলে রাখার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে তারা ঘের থেকে প্রায় চার লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং ঘেরের বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামো ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা ঘেরটি দখলে রেখে প্রতিদিন মাছ আহরণ ও বিক্রি করছে।এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানায়, এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

