
মাসুম বেলাল কাইয়ুম, শ্যামনগর থেকে: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস্) আয়োজনে জলবায়ু সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলাকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সামস্-এর এনগেজ প্রজেক্টের মাধ্যমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘তুমি কেমন পৃথিবী দেখতে চাও’ এবং ‘দুর্যোগের পরে শহর ও গ্রামের চিত্র’—এই দুটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ভাবনা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতির নানা চিত্র তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীফলাকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফজলুর রহমান, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সহকারী শিক্ষক ফণীন্দ্রনাথ আউলিয়া, সমাজসেবক মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন, সামস্-এর কো-অর্ডিনেটর রাম প্রসাদ মুন্ডা, এনগেজ প্রজেক্টের কমিউনিটি অর্গানাইজার মনিকা সরকার ও হৈমন্তী রানীসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনগেজ প্রজেক্টের কমিউনিটি অর্গানাইজার মোমিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন ক্লাইমেট ইয়ুথ ক্লাবের উপদেষ্টা ফণীন্দ্রনাথ আউলিয়া।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাব উপকূলীয় জনপদ, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়ছে। বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও জীবন-জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা যদি নিজেরা সচেতন হই এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করি, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
এনগেজ প্রজেক্টের অর্থায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেটজ বাংলাদেশ-এর সার্বিক সহযোগিতায় এবং বারসিকের সমন্বয়ে সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) এ আয়োজন বাস্তবায়ন করে।

