
শ্যামনগর প্রতিবেদক: বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জলবায়ু ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, ন্যায্য রূপান্তর এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম জোরদারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের তীরে বারসিকের সহযোগিতায় এ জলবায়ু ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্ধশতাধিক জলবায়ুকর্মী, তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও সাউদার্ন চ্যারিটি যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাবিবুল্লাহ আল মামুন। সঞ্চালনা করেন শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক ও শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জান্নাতুল নাঈম।
জলবায়ু ধর্মঘটকে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় গ্রীন কোয়ালিশন, সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম, কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট অর্গানাইজেশন (সিরিও), সাউদার্ন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন, শরুব ইয়ুথ টিম, সোশ্যাল অ্যাকশন ফর ইয়ুথ অ্যালায়েন্স, ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশ, বনজীবী ইয়ুথ টিম এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এতে বক্তব্য রাখেন, যুব স্বেচ্ছাসেবক মো. তরিকুল ইসলাম, মো. শামীম হোসেন, সুমাইয়া আজিজ, মরিয়ম আক্তার, মো. হাফিজুল ইসলাম বুলবুল, মো. সবুজ বিল্লাহ, গাজী ওবাইদুল্লাহ আল মামুন, বারসিক এর ক্যাম্পেইন এন্ড নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটেটর স.ম ওসমান গনী প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও জীবিকা সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে কম অবদান রাখা এসব জনগোষ্ঠীকেই এর ক্ষতির বড় অংশ বহন করতে হচ্ছে। তাই জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি, স্থানীয় জ্ঞান ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বাস্তবভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, জলবায়ু কার্যক্রম শুধু আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় স্থানীয় নেতৃত্বকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি ও ন্যায়ভিত্তিক জলবায়ু কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এসময় অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ুর ন্যায়বিচার, ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং স্থানীয় নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম জোরদারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

