
জি,এম নজরুল ইসলাম, শ্যামনগর থেকে: সুন্দরবনের গভীর অরণ্য ও নদ-নদীতে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা অসহায় জেলে-বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে আলোচিত শাহিনুর সানা সাতক্ষীরায় আটক হয়েছেন। এক জেলে তাকে শনাক্ত করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়েছিলেন জেলে মিরাজুল। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় জিম্মি থাকার পর দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি মুক্তি পান। এ ঘটনার পর থেকে সুন্দরবননির্ভর জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। জীবিকার তাগিদে বনের নদী-খালে যেতে হলেও অজানা আশঙ্কা তাঁদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাতক্ষীরায় মিরাজুলের সামনে শাহিনুর সানা উপস্থিত হলে তিনি তাকে শনাক্ত করেন। পরে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়।
আটক শাহিনুর সানা শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালী এলাকার মাওলা বক্স সানার ছেলে। শাহিনুর সানার আটকের খবর সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জনপদে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সঞ্চার হয়। দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের ভয়, জিম্মি হওয়ার আশঙ্কা এবং মুক্তিপণের আতঙ্কে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মাছ ও কাঁকড়া আহরণে বনে গিয়েও অনেককে কাটাতে হতো উৎকণ্ঠার প্রহর।
উপকূলের মানুষের প্রত্যাশা, শুধু একজনকে আটক করেই যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান থেমে না যায়। সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দস্যুতার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
কারণ, সুন্দরবন কেবল একটি বনাঞ্চল নয়; এটি উপকূলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা, বেঁচে থাকার অবলম্বন ও অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সুন্দরবনের প্রতিটি নদী-খালে নিরাপদে বিচরণের অধিকার নিশ্চিত হোক—এটাই উপকূলবাসীর প্রত্যাশা।

