
শ্যামনগর প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেশকিছু কক্ষ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পরীক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।গত ১৫/০৪/২০২৬ থেকে ১৮/০৪/২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫। সারা দেশে এক যোগে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পরীক্ষায় শ্যামনগর উপজেলার শিক্ষার্থীরা দুটি কেন্দ্রে প্রায় দুইশতাধিক বিদ্যালয়ের কোমল মতি শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বৃত্তিপরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। অভিভাবকদের প্রথম অভিযোগের তীর পরীক্ষা পরীচালনা কমিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কেন্দ্র দুটির হলসুপার ও সহকারী হলসুপার নিয়োগ দেয়া হয়েছে নিয়ম বর্হিভূত ভাবে। যে কেন্দ্রে যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ঐ একই কেন্দ্রে সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষককে হলসুপার ও সহকারী হলসুপার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ হল নকিপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী হলসুপার মোঃআমিনূর রহমান ১৩ নংহায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই ভাবে ৯১ নংখ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃআব্দুল্যাহ আল মামুন নকিপুর সরকারি হরিচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র্রের হলসুপার। তার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে তার ৯১ নংখ্যাগড়াদানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতাদের নিয়োগ দানে কেন্দ্র পরিবর্তন করলে এই অভিযোগ করার সুযোগ ছিলনা।
গত ১৪ তারিখে সহকারী হলসুপার আমিনুর রহমানের তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়া এবং শিশুদের প্রশ্নের সমাধান করে দেওয়ার অভিযোগের সংবাদ দৈনিক সাতনদী পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কোন মাথা ঘামাননি। তবে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন কেন্দ্রের বাইরে কঠোরতা দেখালেও উভয় কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগদান অব্যহত থাকে বলে জানানো হয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিকশিক্ষক জানিয়েছেন যে, আমরা আমাদের শিশুদের মাধ্যমে দূর্ণীতি ও অনিয়মের কথা শুনেছি।উপজেলার ১০ নং গোপালপুর সপ্রাবি, ১৩ নংহায়বাতপুর মডেল সপ্রাবি, ৪৯ নংকামালকাঠি সপ্রাবি, ৭৫ নংনপিুর সপ্রাবি, ৯১ নংখ্যাগড়াদানা সপ্রাবিএবং ১৫৭ নংফুলবাড়ি সপ্রাবি এর শিক্ষার্থীদের কে কক্ষ পরিদর্শকগণ প্রতিটি পরীক্ষায় সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঐসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে অন্য যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিল তারা তাদের অভিভাবকদের এই সব অনিয়ম ও দূর্ণীতির কথা জানালে অভিভাবকগণ হতাশায় বুক চাপড়াচ্ছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা কোমলমতি শিশুরা অনেকখানি নির্বিকার। পৌরকেন্দ্রিক ঐ সকল বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রশ্নের উত্তর দিতে সহযোগিতা করায় কক্ষপরিদর্শক শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
নাম না জানানোর শর্তে এক কক্ষ পরিদর্শক জানান, তার সাথে থাকা অন্য কক্ষ পরিদর্শক ঐ কক্ষের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপাশে গিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। নাম না প্রকাশের শর্ত দেওয়া কক্ষ পরিদর্শক অন্য কক্ষ পরিদর্শককে বাধা দিলে তিনি বলেন, আমাকে উপর মহল থেকে এ কাজে রজন্য এই কক্ষে ডিউটি দেয়া হয়েছে।বিষয়টি সত্যিই অমানবিক।এসব অনিয়ম করার মূল উদ্দেশ্য হল উপজেলার ট্যালেন্টপুল বৃত্তির কোটা লুফে নেওয়া। ট্যালেন্টপুল বৃত্তিমূলতঃ সামগ্রিক উপজেলার একটি কোটা। সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম থেকে সম সংখ্যা বালক ও বালিকাদের ট্যালেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। অতি মেধাবী শিশুরা এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়ে থাকে।
বিগত বছর গুলোতে উপজেলার বিভিন্নই উনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অতি মেধাবী শিশুদের এই ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেতে দেখা গেছে। দূর্ণীতি ও অনিয়মের কারণে এবারই হয়তো পৌর এলাকার উল্লিখিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেষ বিজয়ের হাসি হাসবে। অভিযোগকারীদের অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে এই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের জন্য একটি অশনিসংকেত।প্রকৃত মেধাবীরা ছিটকে যাবে।জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় দেখা ভয়াবহ অনিয়ম তার জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। প্রকৃত মেধাবীরা অনিয়মের কারণে খারাপ ফলাফল করলে, সেটিও তার জীবনে বড় দূর্ঘটনা মনে করবে। যার ফল তাকে সারা জীবন বইতে হবে।যেহেতু কেন্দ্র দুটিতে সিসি ক্যামেরা বিদ্যমান, তাই প্রকৃত ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দোষী ব্যক্তি খুঁজে বের করা খুবই সহজ বলে মনে করেন অভিযোগকারীরা। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত অভিযোগকারীদের একটি দল সিসিক্যামেরা থেকে ভিডিও সংগ্রহ এবং প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তদন্ত পরবর্তী সংশ্লিষ্ট দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সভাপতি, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কমিটি, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা বরাবর লিখিতআবেদন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক বৃত্তিপরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহীঅ ফিসার শামসুজ্জাহান কনক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন-প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রকৃত সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি না হলে, এধারা আগামীতে চলতে থাকবে, যা কারো কাম্য নয়। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজই পারে অভিযোগের সত্যতা মেলাতে এমন দাবী ভুক্তভোগী অভিযোগকারীদের।

