
মেহেদী হাসান, খুলনা প্রতিবেদক: খুলনায় পৃথক তিনটি স্থানে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী। আহতদের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা সোহেল শেখের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। একই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন যুবদল নেতা অহিদুল ইসলাম বাদল। অন্যদিকে, জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী সালমান হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
একের পর এক গুলির ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। থানায় কোনো মামলাও হয়নি। এর মধ্যে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর স্থলে নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এস এম মিজানুর রহমান।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে খুলনার পৃথক তিনটি স্থানে গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুটি ঘটনা জেলার বটিয়াঘাটা থানার আওতাধীন এলাকায় এবং অন্যটি খুলনা মহানগরীর সদর থানার নিরালা আবাসিক এলাকায়। প্রতিটি ঘটনায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গুলি চালায় বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে অহিদুল ইসলাম বাদল বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। সোহেল শেখ আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। অপর আহত সালমান হাওলাদার জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী।
তিনটি ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও চিকিৎসার অগ্রগতি জানা গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গুলিবিদ্ধ সাবেক ছাত্রদল নেতা সোহেল শেখের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ কারণে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন যুবদল নেতা অহিদুল ইসলাম বাদল। তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
অন্যদিকে, গুলিবিদ্ধ সালমান হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বটিয়াঘাটায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনার পর বুধবার ওসি মারুফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ৫ জুন তিনি বটিয়াঘাটা থানার ওসি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
তাঁর স্থলে পাইকগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার তিনি বটিয়াঘাটা থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে ওসি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে গুলির ঘটনাগুলোর সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুখ বলেন, ‘নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন ওসি পদায়ন করা হয়েছে। মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই ওই দুজনকে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পেরেছি। খুব দ্রুত তারা গ্রেপ্তার হবে।’
বটিয়াঘাটা থানার নতুন ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
অন্যদিকে, খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, সালমান হাওলাদারকে গুলির ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পৃথক তিনটি গুলির ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চললেও অপরাধীদের গ্রেপ্তার, ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটন এবং মামলা না হওয়ার বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এখন দেখার বিষয়, শনাক্ত ব্যক্তিদের কবে আইনের আওতায় আনা যায় এবং পৃথক ঘটনাগুলোর পেছনে কী কারণ ছিল, তা তদন্তে কতটা স্পষ্ট হয়।

