
নিজস্ব প্রতিবেদক:ক্রীড়া সংগঠন, রাজনীতি ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রমে নিজেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মীর তাজুল ইসলাম রিপন। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি । ক্রীড়াঙ্গনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সব মিলিয়ে বহুমাত্রিক এক জীবনযাত্রার গল্প তাঁর।
রিপনের ক্রীড়া জীবন:- ১৯৮৯ সালে স্কুল ক্রিকেট দিয়ে ক্রীড়া জীবনের সূচনা হয় মীর তাজুল ইসলাম রিপনের। এরপর ধাপে ধাপে এগিয়ে ১৯৯৪ সালে ক্রিকেট দ্বিতীয় বিভাগ লাভ কনে তিনি । ১৯৯৬ সালে সাতক্ষীরা প্রথম বিভাগ লীগে অংশগ্রহণ করেন তিনি । ১৯৯৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ জেলা দলের হয়ে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন । পরবর্তীতে ঢাকার বিকেএসপির প্রথম ব্যাচের সঙ্গেও খেলেন তিনি। ১৯৯৮ সালে ঢাকা দ্বিতীয় বিভাগ এবং ২০০০ সালে ঢাকার ওয়ারীতে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে অংশ নেন।
শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও তিনি সমানভাবে সফল। ২০০০ সাল থেকে বিসিবির আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী টাউন স্পোর্টিং ক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারী হিসেবেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
সাতক্ষীরার ক্রীড়া অঙ্গনে ভুমিকা :- মীর তাজুল ইসলাম রিপন ২০১২ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০২০ সাল পর্যান্ত দ্বায়িক্ত পালন করেন । এরপর ২০২৪ সাল পর্যান্ত জয়েন্ট সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
রিপনের রাজনৈতিক জীবনী : –
রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন রিপন। ১৯৯৭ সালে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ২০০৫ সালে জেলা ছাত্রদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি । এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে ৩৯ দিন এবং ২০১৮ সালে নাশকতা মামলায় ৩৭ দিন কারাভোগ করেন তিনি।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে রিপন: -সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও অগ্রগামী রেখেছেন মীর তাজুল ইসলাম রিপন । করোনা মহামারির সময় তিনি প্রতিদিন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, নিজ উদ্যোগে অক্সিজেন সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে । প্রতিবছর শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি মোবাইল মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে টানা ১৯ বছর দায়িত্ব পালন করছেন। আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সেক্রেটারী হিসেবে ৭ বছর এবং লায়ন্স ক্লাবের জেলা সেক্রেটারী হিসেবে ৫ বছর কাজ করেছেন। এছাড়া জেলা নাগরিক উন্নয়ন ও অধিকার কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশে-বিদেশে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি ।
রিপনের বিভিন্ন পদক লাভ:- মীর তাজুল ইসলাম রিপন ২০২৪ সালে ভারতে ‘মহাত্মা গান্ধী শান্তি পদক’ লাভ করেন ক্রীড়া সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দুইবার পদক পেয়েছেন তিনি।
ক্রীড়া, সংগঠন, রাজনীতি ও মানবিক কাজ—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় থেকে মীর তাজুল ইসলাম রিপন নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

