
#নিরাপদ পরিবেশে লম্পটদের জঘন্য কীর্তি!
#ভণ্ডামির থলে ফাঁস হতেই দুই ‘হুজুর’ লাপাত্তা
মোহাম্মদ মুজাহিদ: সাতক্ষীরা শহরের মধ্য কাটিয়া টাউন বাজারের পূর্ব পাশে ঢালিপাড়া মোড়ে অবস্থিত ‘তাকওয়া মাদ্রাসা’য় এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোখলেসুর রহমান ও হিফয বিভাগের প্রধান আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই গ্রামের মাঠপাড়া এলাকার এক দিনমজুরের শিশু সন্তানকে (ছন্দনাম আমির) বলাৎকার করে আসছিলেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
শুধু তাই নয়, অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বাগেরহাটের অপর এক শিক্ষার্থীর (ছন্দনাম মঞ্জুর) সাথেও একই ধরনের জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন এই দুই লম্পট শিক্ষক। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কিছু পাতিনেতার ছত্রছায়ায় দুই অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের পাশাপাশি অভিযুক্ত মোখলেসুর রহমান ও আব্দুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, নূরানী, নাযেরা ও হেফজুল কোরআন বিভাগের নামে চোখধাঁধানো ও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে আসছিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অভিজ্ঞ শিক্ষিকা দ্বারা পাঠদান, সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস, বালিকাদের আলাদা পর্দা ও নিরাপদ পরিবেশ, কওমি ও সরকারি সিলেবাসের সমন্বয় এবং সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মুখরোচক প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিভাবকদের আকৃষ্ট করা হতো। কিন্তু এসব আকর্ষণীয় প্রচারণার আড়ালেই চলতো কোমলমতি শিশুদের ওপর লালসা ও নির্যাতনের অভয়ারণ্য।
এবিষয়ে অভিযুক্ত লম্পট মোখলেছুর রহমান ও আব্দুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দ্বীন শিক্ষার পবিত্র নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের অপরাধীরা সমাজে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। অপরাধীদের পালাতে সাহায্যকারী তথাকথিত পাতিনেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে যেন মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ শাস্তি দেওয়া হয় এবং বিতর্কিত এই মাদ্রাসাটির সার্বিক কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

