
অনলাইন ডেস্ক : ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ করে ৩০টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার দাবি পূরণ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দল।
শনিবার রাতে জামায়াত কার্যালয়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনের পরও ১১ দলীয় ঐক্য থাকবে। সংসদ এবং বাইরে জোট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণের স্বার্থে যখন যে ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন তা করা হবে।
নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন উঠেছে জানিয়ে হামিদুর রহমান বলেছেন, যেসব আসনে কারচুপির প্রমাণ রয়েছে, স্বল্প ব্যবধানে হারানো হয়েছে, সেগুলোতে পুনর্গণনার আবেদন করা হয়েছে। এসব আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিতের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছে। অনেকে সময়ের অভাবে আবেদন করতে পারেননি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইসিতে আবেদনের পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের কারণ দেখিয়ে অভিযোগগুলো গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগ নির্বাচন কমিশন গ্রহণ না করায় ১১ দলীয় জোট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাবে বলে জানিয়েছেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনে হাইকোর্টে যাব। রোববার ১১ দল নির্বাচন কমিশনে যাবে।
আযাদ বলেন, ৩০টির বেশি আসনে কারচুপির সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। এগুলো তুলে ধরা হবে কমিশনের কাছে।
গণভোটের ফল মানতে হবে
১১ দলের সমন্বয়ক বলেছেন, শুধু নির্বাচন নয়, গণভোটও হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে। এ বিষয়ে ১১ দলের অবস্থান স্পষ্ট। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হওয়ায়, প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। এখানে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকলে, তা গ্রহণের সুযোগ নেই। কারণ জনগণ হ্যাঁ ভোট দিয়ে নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাখান করেছে। তাই বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই।
হামিদুর রহমান বলেছেন, সংসদ বসার পর ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। ভোটের অনুপাতে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ, গণভোটের জনরায় প্রত্যাখান করতে পারে না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবে না, এমন শঙ্কা রয়েছে কিনা- প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘না’ ভোট বিজয়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেক্রেটারি জেনারেলের আসনে বিএনপি যত ভোট পেয়েছে, তত সংখ্যক ‘না’ ভোট পড়েছে। ধানের শীষের পাশাপাশি ‘না’ ভোটের প্রচার করা হয়েছে। তাই শঙ্কা রয়েছে। তবে গণভোটকে অপেক্ষা করে কিছু করতে চাইলে, জনগণ মানবে না।
সহিংসতা বন্ধ না হলে আন্দোলন
হামিদুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পর অনেক জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। নারীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। কারণ এই নির্বাচনে ১১ দলের পক্ষে নারীদের অবস্থান ছিল। কক্সবাজারে দুইদিনে তিনজন নারীকে আক্রমণ করা হয়েছে। যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তারা যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী আচরণ বন্ধ করেন। না হলে রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো। বাধ্য করবেন না।
ফ্যাসিবাদে পুনর্বাসন করা হচ্ছে অভিযোগ করে হামিদুর রহমান বলেছেন, পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিস খুলেছেন একজন বিএনপি নেতা। একই কাজ হয়েছে মুন্সীগঞ্জে। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত বন্ধ করতে হবে।

