
নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলার স্বাদ পেল সর্বশ্রেণী পেশার মানুষ। অন্যান্য বার মাসাধিককাল ধরে মেলা চললেও এবার তা ২০ দিনের মাথায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে মেলায় স্টল দেওয়া দোকানীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই বছর বন্ধ থাকার পর গুড়পুকুরের মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসন।
এব্যাপারে একটি মিটিংও হয়। মিটিং-এ সর্বসম্মতিক্রমে মেলার অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পরবর্তীতে খুলনার জনৈক্য ব্যবসায়ীর অনুকুলে ২০ দিন মেলা করার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।
মেলায় দুইশটির অধিক স্টল দেয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। এসব ব্যবসায়ীদের স্টল নির্মাণ, বিদ্যুৎ লাইনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেন খুলনার জনৈক ব্যবসায়ী। স্টলসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে ব্যসায়ীরা নির্দিষ্ট অংকের টাকা প্রদান করেছে মেলার অনুমতি পাওয়া খুলনার জনৈক ব্যবসায়ীকে।
মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অন্যান্যবার একমাসেরও অধিককাল ধরে মেলায় তারা ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু চলতি বছর ২০ দিন মেলা চলার পর তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্নখাতে অর্থকড়ি ব্যায়ের পর ব্যবসায়ীরা লোকসানের মধ্যে পড়েছে। মেলাটি আরো অন্তত দশদিন বর্ধিত করা হলে তাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মূখ দেখতে পারতো।
এদিকে, জেলা প্রশাসকের তরফ থেকে ২০ দিন পর মেলা বন্ধ ঘোষণা করে মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্যে তিনদিন সময় বেঁধে দিয়েছে। প্রতিদিন মেলায় হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগম হচ্ছে। সাতক্ষীরার মানুষের জন্য গুড়পুকুর মেলা একটি বার্ষিক বিনোদন। বন্ধ ঘোষণার পরও মেলায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি অব্যহত আছে। এবারের মেলায় নেই লটারি। ফলে আয়োজকদের আয়ের সুযোগ নেই এক অর্থে।
এব্যাপারে ব্যবসায়ী ও আয়োজকদের পক্ষে মেলাটি আরো অন্তত দশদিন বাড়ানোর জন্য দাবী করা হয়েছে। মেলার একেবারে শেষের দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেলা কেন্দ্রিক অর্থ লুটপাটের গুরুত্বর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এব্যাপারে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু এই প্রতিবেদককে জানান, বন্ধ থাকা মেলাটি চালু করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে মেলাটি চালু করা প্রয়োজন ছিল।
এবারের মেলায় লটারি কিংবা কোন প্রকার জুয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে অবৈধ অর্থের কোন সোর্স না থাকায় অর্থ লোপাটের খবর ভিত্তিহীন। পৌরসভার আয়োজনে মেলাটি হয়েছে। এখানে আমার কিম্বা আমার দলের কোন নেতাকর্মীর দায় নেই। মেলাটি চালু হওয়ায় সাতক্ষীরার হাজার হাজার মানুষ বিনোদনের সুযোগ পেয়েছে।

