নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরা আলী মার্কেটে চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার সকাল ১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ফ্রেন্ডস জুয়েলার্সে এ অভিযান প্রচালিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে আলী মার্কটে কিছু অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। সেই খবর পেয়ে পুলিশ আজ অভিযান চালায় ।
নাম না জানানোর শর্তে স্থানীয় এক জুয়েলার্সের কর্মচারী জানান, সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন বাসা, প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি, ডাকাতি করা স্বর্ণের একটা অংশ কমদামে আলী মার্কেটের কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে চোর ডাকাতরা । স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের রয়েছে বড় একটা সক্রিয় সিন্ডিকেট। কমদামে চোরাই স্বর্ণ কিনে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গিয়েছে অনেকে। চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার সুরক্ষা হিসাবে রয়েছে একটি ৫/৬ জনের মাদকাসক্ত সন্ত্রাশী বাহিনী। চোরাই স্বর্ণের বিরুদ্ধে কোন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহে গেলে এই সন্ত্রাশী বাহিনী হুমকি দেয়। নিউজ করলে মেরে ফেলার ও হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় এক সংবাদিক জানান,আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযানের খবরে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সেই সিন্ডিকেট সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে,অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন পুলিশের সামনে। পুলিশের নিরবতায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া সুশীল সমাজের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য দেবহাটার একজন প্রবাসী তার সহকর্মীকে সাড়ে ৬ ভরি সোনার গহনা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়। গহনাগুলো তার পরিবারের কাছে দেওয়ার চুক্তিবদ্ধ করেন বিমান খরচের একটা অংশ বহন করার সুবাদে। কিন্তু সেই গহনা না দিয়ে আলী মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পল্টুর সহযোগিতায় পাশের ফেন্ডস জুয়েলার্সের কাছে কমদামে বিক্রি করে। পরবর্তীতে সেই প্রবাসী দেশে এসে মামলাকরে আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে এই স্বর্ণ বিক্রির কথা স্বীকার করে দেবহাটা থানা পুলিশের কাছে। সেই ধারাবাহিকতায় দেবহাটা থানা ও সদর থানা পুলিশ দীর্ঘ ৬/৭ ঘন্টা অভিযানে এই স্বর্ণ বিক্রির সত্যতা পায়।পরে ঘটনাস্থলে মিমাংসার জন্য ছুটে যান জেলা জুয়েলার্স সমিতির লোকজন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, পুলিশ দেবহাটা থানার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

