
# পূর্ববিরোধের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বিরোধের কারণে হত্যার শিকার হতে পারেন জাকারিয়া
# চায়ের দোকানি রবিউলকে রক্ষা করতে গিয়েই ছুরিকাঘাতের শিকার হওয়ার দাবিও
# দুই সম্ভাব্য কারণ সামনে রেখে সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারী শনাক্তের চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড়ে গভীর রাতে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া খান (১৯) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে রবিউলের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত জাকারিয়াকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত জাকারিয়া শহরের কাটিয়া এলাকার রুচিরা বেকারির মালিক আব্দুল গফুর খানের ছেলে।
নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপি নেতা মাছুম বিল্লাহ শাহীন জানান, শুক্রবার রাতে জাকারিয়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে রবিউলের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে চায়ের দোকানদারের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জাকারিয়া দোকানদারকে রক্ষা করতে এবং মারামারি থামাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে ওই যুবকদের একজন জাকারিয়ার বুকে ও পেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ছুরিকাঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চায়ের দোকানি রবিউল জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে কয়েকজন যুবক তার দোকানে সিগারেট কিনতে আসে। তারা বাকিতে সিগারেট চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তারা তাকে মারতে উদ্যত হয়। বিষয়টি দেখে দোকানে বসে চা খাওয়া জাকারিয়া তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে যুবকদের একজন জাকারিয়াকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ববিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা দাবি করেন, জাকারিয়ার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা ছিল। শুক্রবার রাতে শহরের মাওয়া চাইনিজের সামনে একটি সংগীতানুষ্ঠানে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এর কিছুক্ষণ পর সঙ্গীতা মোড়ের পশু হাসপাতালের পাশে রবিউলের চায়ের দোকানে আবারও তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাকারিয়াকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে ওই বাসিন্দার দাবি।
স্থানীয় সূত্রের এসব বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। একদিকে চায়ের দোকানি রবিউলকে রক্ষা করতে গিয়ে তাৎক্ষণিক বিরোধের জেরে জাকারিয়া হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আগে থেকে চলে আসা বিরোধের জের ধরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো সদস্য বা নেতার সম্পৃক্ততার কথাও বলা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় দাবিটির সত্যতা এখনো পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
ফলে জাকারিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ কী—চায়ের দোকানে তাৎক্ষণিক বিরোধ, নাকি পূর্ববিরোধের জের—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তে কোন তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়, সেটিই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুর রহমান জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
শহরের ব্যস্ততম সঙ্গীতা মোড়ে গভীর রাতে এ ধরনের ছুরিকাঘাতে তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

