
#জেলা জনস্বাস্থ্যের দুইশ কোটির ঠিকাদারী কাজ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম
# কাজ প্ওায়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক গোপালগজ্ঞের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের স্বজনরা
# বদলি আদেশ ঠেকাতে জেলা বি এন পির এক শীর্ষ নেতার তদ্বির
# ৭ উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীরা নির্বাহী প্রকৌশলীরা দূনীতির সাথে জড়িত।
হাবিবুর রহমান/ কিশোর কুমার : গেপালগজ্ঞের নামে চলা দোদন্ড প্রতাপশালী সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে দূনীতির দায়ে বদলী করা হয়েছে। দুইশত কোটি টাকার টেন্ডার স্বজনদের নামে নিয়ে নিজেই ঠিকাদারী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ।
এ দিকে নিজের বদলী ঠেকাতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নামা প্রকৌশলীর বদলী আদেশ বাতিলের জন্য জেলা বি এন পির এক শীর্ষ নেতা প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করেছেন বলে জানা গেছে । ঘটনাটি সাতক্ষীরার এখন টক অফ দা টাউন ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে , উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি প্রকল্পের নামে দীর্ঘ চার বছরে সাতক্ষীরায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্ধ শতকোটি টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারী প্রকল্পের নামে অর্থলুটপাটের ঘটনায় নির্বাহী প্রকেীশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ঠিকাদাররা।
অভিযেগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে চলতি মাসের ১৭ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামকে অফিস আদেশে কুষ্টিয়া জেলায় বদলি করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর । তবে বদলী হল্ওে থেমে নেই তার দৌরত্ব । ছুটির দিনে অফিসে বসে অফিসের নথিপত্র গায়েব করে বদলী ঠেকাতে রিতিমত বিভিন্ন মহলে দৌঁড় ঝাপ শুরু করে চলেছেন তিনি। আর এই অপকর্মে সহযোগিতা করেন তারই অফিসের ক্যাশিয়ার শাখাওয়াত হোসেন। টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যশোরের নিউ মার্কেট এলাকায় ৫ তলা বাড়ি, ৮/১০টি প্লট সহ কয়েক বিঘা জমি কিনেছেন শহিদুল ইসলাম নিজেই । এছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীসহ বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে বহু সম্পত্তি কিনেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালে ২০ মে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্যের নির্বহী প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন শহিদুল ইসলাম । এরপর থেকে তিনি জড়িয়ে পড়েন লুটপাটের মহাযজ্ঞে। গত ২০২০ -২১ অর্থ বছরে সুপেয় পানির জন্য সারাদেশে ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা খরচ করে হাতে নেয় বিগত আওয়ামীলীগ সরকার। এর মধ্যে ৫ টি প্যাকেজে ২‘শত ১২ কোটি বরাদ্ধ হয় উপকুলীয় জেলা সাতক্ষীরার জন্য । প্রকল্প গুলোর মধ্যে রয়েছে রেইন ্ওয়াটার হারবেষ্ট , গভীর নলকুপ, সাব মার্সেবল পানির পাম্প। প্রকল্পটির শুধু মাত্র গরীব আর পিছিয়ে পড়া মানুষকে স্বল্প মূল্যে নিরাপদ পানি দেওয়ার জন্য ছিল। কিন্তু বরাদ্ধের ২ শত কোটি টাকা অপচয় করে অনিয়মের মাধ্যমে লাভবান হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে আশাশুনি ্ও শ্যামনগর উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি সংকট নিরসনে সারা ,দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ ও ‘উপকূলীয় জেলা সমূহে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে পানি সরবরাহ’ নামে দুটি প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পে ৩ হাজার লিটারের পানি সংরক্ষণের ট্যাংক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ বিতরণ করা হয়। এসব প্রকল্পের আওতায় সরকারের উপকারভোগী প্রতি ব্যয় প্রায় ৪২ হাজার ২০০ টাকা (ভ্যাট ট্যাক্সসহ)। তবে সরকারী এ প্রকল্পে গ্রাহক প্রতি ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা ন্ওেয়ার কথা থাকলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে ন্ওেয়া হয়েছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা । এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষদের বাদ দিয়ে সমাজের স্বচ্ছল চাকরীজীবীদের কাছে ১২ থেকে ১৭ হাজার টাকায় ফেরি করে বিক্রি করছেন এসব ট্যাংক বলে অভিযোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের। এই অনিয়মের সাথে স্থানীয় জন প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত বলে অভিযোগের তীর এলাকাবাসী।
তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবী স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যে তালিকা পাওয়া গেছে সেই তালিকা অনুযায়ী ট্যাংকি বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কোন দূর্নীতির কোন সুযোগ নেই বলে দাবী তাদের ।
সরজমিনে গেলে ,শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আল আমিন হোসেন , আলাফাত হোসেন , করিম শেখ , রমজান নগরের বাসিন্দা আয়েশা খাতুন, আমেনা বেগম সহ অনেকে জানান, আমাদের এলাকায় সুপেয় পানির বড়ই অভাব। দিনে দুই থেকে তিন বার দূর হেঁটে পানি আনতে হয়। পানির পাত্র না থাকায় বৃষ্টির সময় পানি ধরে রাখতে পারেনা তারা । শুনেছি সরকার থেকে তিন হাজার লিটারের পানির ট্যাংকি দেয়। সরকারী বরাদ্ধ তো স্বপ্নের মত । পানির সমস্যা নিয়ে এরপর স্থানীয় মেম্বরদের কাছে গেলে দিতে হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। দু:খের বিষয় হল পানির ট্যাংকি গরীব অসহায় মানুষ না পেয়ে এলাকার বিত্তবানরাই পাচ্ছেন। তারা ১২ থেকে ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে ক্রয় করছেন সরকারি ট্যাংক। আর এসব ট্যাংকি ব্যবহার করছেন গরুর গোয়াল আর মুরগীর খামারে ।
নাম না জাননোর শর্তে স্থানীয় এক সংবাদ কর্মী জানান, সরকার পতনের কয়েক মাস আগেই শ্যামনগর জুড়ে চলেছে ট্যংকি বিক্রির হরিলূট। আর এসবের পেছেনে রয়েছে সাবেক সংসদ থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বর পর্যান্ত। গরীব মানুষকে ট্যাংকি না দিয়ে রমাজান নগরে ফারুক হোসেন নামে এক ইউপি সদস্য হাতিয়ে নিয়েছেন চারটি ট্যাংকি। এছাড়া নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এলাকায় অধিকাংশ বিত্তবানদের বাড়িতে ২ থেকে ৩ টি ট্যাংকি রয়েছে। লুটপাটের এই মহাযজ্ঞে খোদ নির্বাহী প্রকৌশলী ও তার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জড়িত বলে অভিযোগ তার ।
নাম না জানানোর শর্ত দিয়ে সাতক্ষীরার জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক এক প্রকৌশলী জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম সাতক্ষীরায় যোগাদানের পর অফিস কে দূনীতির এক অভয় অরন্যে পরিনত করেছিলেন । তৎকালীন সময়ে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানির বাসিন্দা হ্ওয়ার সুবাদে অফিসের সকল ঠিকাদারদের জিম্মি করে ফেলেছিলেন। ৩ থেকে ৪ % কমিশন না দিলে কোন ঠিকাদার পেতনা কোন প্রকল্পের কাজ। এছাড়া নিজের আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইতিমধ্যেই। নিজের আত্মীয় পরিচয়ে প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ করত কামাল এন্টার প্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান । জানা মতে দীর্ঘ চার বছরে টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় কয়েক অর্ধ শত লুটপাট করেছেন তিনি। ঘুষের টাকায় যশোরের নিউ মার্কেট এলাকায় ৫তলা বাড়িসহ ৮/১০টি প্লট সহ কয়েক বিঘা জমি কিনেছেন তিনি। এছাড়া গাপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীসহ বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে সম্পত্তি রয়েছে।
তিনি আরো জানান, ।মো.শহিদুল ইসলাম ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় চাকুরীতে যোগদান করলে ্ও তার পিতার মুক্তিযোদ্ধার গেজেট হয় ২০১৬ সালে। এছাড়া তার একাডেমিক সনদ নিয়্ওে রয়েছে বির্তক । চাকরির শুরুতে চার লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে এমন গুঞ্জন শোনা যায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কামাল এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম বলেন, অফিস থেকে যে তালিকা দ্ওেয়া হয় , সেই তালিকা অনুযায়ী আমরা ট্যাংকি বিতরণ করছি।যদি কিছু বলার থাকে তাহলে অফিসে কথা বলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তখন আমি বক্তব্য দিতে পারব । এখন আমি এ ব্যাপারে কোন তথ্য আপনাদের দিতে পারবনা বলে একটি কাগজ ধরিয়ে দেন ।
অপরদিকে নিজের বদলী আদেশ ঠেকাতে শহিদুল ইসলাম কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন । এ কাজে তাকে সহয়তা করছেন স্থানীয় কতিপয় ঠিকাদার ্ও তার অফিসের ক্যাশিয়ার শাখাওয়াত হোসেন। জেলা বি এনপির প্রভাবশালী এক নেতা যিনি পেশায় একজন আইনজীবি তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারী প্রধান প্রকৌশলী ফোন করে নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির আদেশ বাতিলের জন্য বলেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেছে ।
এদিকে ঘুষ খোর এই কর্মকর্তার দূনীতি ও বদলী নিয়ে খুলনা সুপারিনটেনডেন্ট প্রকৌশলী ্ও ঢাকার প্রধান প্রকৌশলী সাতনদীকে জানান, তার বদলির হয়েছে । তিনি দুই সপ্তাহ সময় পাবেন। এরপর তাকে নতুন কর্মস্থলে চলে যেতে হবে। তার বিরুদ্ধে ্ওঠা দূনীতির অভিযোগ তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা ন্ওেয়া হবে।