
মেহেদী হাসান, খুলনা প্রতিনিধিঃ খেলার মাঠ হারিয়ে ফেলা এক শহরে নতুন করে জেগে উঠেছে সবুজের স্বপ্ন। নগরায়ণের চাপে যখন খুলনার একের পর এক খোলা মাঠ বিলীন হয়েছে, তখন একদল তরুণ নিজেদের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক মানের কৃত্রিম ঘাসের টার্ফ। তাদের বিশ্বাস, মাঠে ফিরলেই ফিরবে প্রাণ, ফিরবে খেলাধুলার সংস্কৃতি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় আধুনিক এই টার্ফের। বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক মেহরাব হোসেন সামিন, প্রিন্স, মিম, রিপন ও তৌকিরসহ কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে টার্ফটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার, ফুটবল সংগঠক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হামজা পিয়াস এবং শাহরিয়ার ঈমনসহ স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক ও উদ্যোক্তাদের অন্যতম মেহরাব হোসেন সামিন বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি জাতিকে সুস্থ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে। খুলনায় দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক খেলার অবকাঠামোর অভাব ছিল। আমরা চেয়েছি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে তরুণরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারবে এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, এই টার্ফ কোনো ব্যবসায়িক প্রকল্প নয়, এটি তরুণদের মাঠমুখী করার একটি সামাজিক উদ্যোগ।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন, দেশজুড়ে নারী ও পুরুষ উভয় খেলাধুলার বিকাশে আধুনিক মাঠের প্রয়োজন রয়েছে। খুলনায় এমন একটি উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমি আশা করি এখান থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম বলেন, নগরায়ণের কারণে খেলার মাঠের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বেসরকারি উদ্যোগে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের টার্ফ নির্মাণ অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের মতে, খুলনায় দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত খেলার মাঠের অভাব ছিল। ফলে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার সুযোগ সীমিত ছিল।
তরুণ ফুটবলার নূর বলেন, আগে ভালো মাঠের জন্য অনেক দূরে যেতে হতো। এখন আমাদের শহরেই আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা পাওয়া যাবে।
উদ্যোক্তারা জানান, টার্ফটিতে আধুনিক কৃত্রিম ঘাস, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টি কিংবা রাত যেকোনো সময় খেলাধুলা করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন শহরে আধুনিক টার্ফ নির্মাণের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ছে। খুলনার এই উদ্যোগও নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একসময় যে শহরের পরিচয় ছিল মাঠ আর খেলাধুলা, সেই খুলনাতেই আবারও ফিরছে সবুজের আহ্বান। সোনাডাঙ্গার এই টার্ফ শুধু একটি খেলার মাঠ নয় এটি একটি শহরের হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ের প্রতীক। রূপসা পাড়ের এই সবুজ স্বপ্ন এখন খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে লিখছে নতুন ইতিহাস।

