
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা (কেবিএস) জেলার সমন্বয়ে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসমাপ্ত কাজ বাতিল এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তুলছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , মো. কামরুজ্জামান বর্তমানে অন্য একটি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কেবিএস প্রকল্প পরিচালনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আসছেন। বিশেষ করে চলমান কিছু স্কিম বাতিল এবং প্রকল্প দ্রুত সমাপ্তির উদ্যোগ নিয়ে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
কেবি এস প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কবির হোসেন , ইনজামমুল হোসেন, হেলাল হোসেন অনেকে অভিযোগ করেন, কেবিএস প্রকল্পের আওতায় এখনও বহু উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।অথচ এসব কাজের একটি অংশ বাতিল বা স্থগিত রেখে প্রকল্প সমাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, প্রকল্পের প্রকৃত বাস্তবতা গোপন রেখে যদি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।এদিকে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। প্রকল্প পরিচালক ঢাকার আগারগাঁও বিএনপি বাজারের পাশে ২৭ নং ভবনের ১০ তলার পাঁচ তলায় নিজ ফ্লাটে থাকেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের কিনা ফ্লাটে ছয় তলা ভবনের নির্মান কাজ চলছে। মিরপুর ১২ নং সাগরদা পল্লবী থানার পেছনে আট তলা ভবনের চার তলা ফ্লাট তার ভাড়া দেওয়া। মিরপুর ১ নং মার্কেটে তার দোকান আছে।
নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ লাইনের সামনে চার তলা ভবন । কুষ্টিয়া ছয় রাস্তার মোড়ে ২২ নং ফয়সাল টাওয়ারে একটা ফ্লাট । কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের মার্কেটে তার একটি শপিং মহলের দোকান আছে। কুষ্টিয়া মিরপুরে তার পরিবারের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ আছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং অনিয়মিত ব্যয়ের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় করেছেন প্রকল্প পরিচালক ।দীর্ঘ চাকরি জীবনে সরকারি বেতনের আয়ের তুলনায় তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, ভবন, দোকান এবং অন্যান্য সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে ।বর্তমানে
কেবিএস প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভুয়া বিল ভাউচারে কোটি কোটি টাকা উত্তলোন করে লুট পাট করেছেন। নামে বেনামে তৈরি করেছেন অঢেল সম্পদ। যাহা অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে।
আমির মুনসুর গ্রুপ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান অভিযোগ করেন , প্রকল্প পরিচালক তাদের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবী করেছেন কয়েকদিন আগেই । এঘটনায় তিনি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। সেটা তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে কেবিএস প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রকল্পের আওতায় কর্মরত আউটসোর্সিংভিত্তিক প্রায় ৬৫ জন কর্মচারী চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য , প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তারা বেকার হয়ে পড়বেন। চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতেও অনিচ্ছুক।
প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় যেসব উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা আগের মতোই রয়ে গেছে। কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও অসম্পূর্ণ। ফলে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
কেবিএস প্রকল্পে বাস্তবে কতগুলো কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কতগুলো অসমাপ্ত রয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরদারির দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামানকে ফোন দিলে তিনি বলেন,কেবিএস প্রকল্প শেষ করার জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারদের কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে । প্রজেক্টের মেয়াদ বাড়ানো আমার হাতে নয় এটা মন্ত্রনালয়ের ব্যাপার । এর আগে স্ব স্ব জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মিটিং করেছেণ তারঅ সেখানে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলেননি । এ বিষয়ে আমার কোন দায় নেই। তবে প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থ বছরের বরাদ্ধ ৫০ কোটি টাকার মধ্যে ৪০ কোটি টাকা কুষ্টিয়ায় কিভাবে গেল এমন প্রস্নের জবাবে তিনি বলেন , এটা ভিন্ন প্রকল্প এখানে কোন প্রজেক্টের সাথে কোনটার সম্পৃক্ততা নেই ।

