
শেখ আহসান হাবিব,কালিগঞ্জ:কালিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের আওতাভুক্ত ১২টি ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক সুস্থ ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী সাজিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবিদকের কাছে চম্পাফুল ইউনিয়নের ৬৭ জন প্রতিবন্ধীর ১টি তালিকা হাতে আসে। তালিকা অনুযায়ী সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, ৬৭ জনের ভিতর ২০ জন সুস্থ মানুষ। বাকি ৪ জনের আংশিক সমস্যা থাকলেও সরকারি প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবার কোন সুযোগ নেই। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এসব ভুয়া প্রতিবন্ধীরা কিভাবে যুক্ত হল তার জবাবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জানান, “স্থানীয় কিছু দালাল অর্থের বিনিময়ে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীদের সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দিয়েছে। আমরা শুধু টাকা দিয়েছি। এর বেশি কিছু জানিনা “। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে উপজেলা জুড়ে। ১টি ইউনিয়নেই যদি এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় বাকি ১১টির অবস্থা অনুমেয়।
এসব বিষয় নিয়ে সরাসরি কালিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: শাকিল আহমেদের সাথে দেখা করে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে এই প্রতিবেদককে জানান, “চম্পাফুলে অন্তত ২২ জনসহ অন্যান্য ইউনিয়নে ১ থেকে ৯ জন পর্যন্ত ভুয়া প্রতিবন্ধী প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে”। তবে অন্তর্ভুক্তিতে তার অফিসের আর্থিক যোগাযোগের বিষয় অস্বীকার করলেও কিভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো এর সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। এবং আরো জানান, “ভুয়া প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি আমি ইউ. ও কালিগঞ্জ সহ অধিদপ্তরের ডি.জি মহোদয় কে অবগত করেছি। আমি কালিগঞ্জে জয়েন করার পর আমাদের সার্ভার হ্যাক হয় এবং কিছু বহিরাগত অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় ভুয়া প্রতিবন্ধীরা অনলাইনে আবেদন করে। পরে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের অপেক্ষায় যা আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের ভিতরে প্রকাশিত হবে। এমন অনৈতিক কাজের সহায়তাকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং ভুয়া আবেদনকারীদের লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেন তারা আর কখনো আবেদন করতে না পারে”। তবে সুশীল সমাজের মনে প্রশ্ন থেকেই যায় সংশ্লিষ্ট অফিসের সহায়তা ছাড়া প্রাথমিক তালিকাতেই বা কিভাবে এরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল!

