
আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে রূপান্তরের আয়োজনে প্লাস্টিক পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে ছাত্র ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সমাকেশ অনুষ্ঠিত হয়। রূপান্তরের জেলা সমন্বয়কারী গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাজহারুল ইসলাম মুকুল। আশরাফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সহকারী শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র পাল, আসিফ ইকবাল ও সেলিনা আক্তার এবং ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের আহবায়ক কর্ণ বিশ্বাস কেডি। বক্তাগণ বলেন, ব্যবহারের পর আমরা যে প্লাস্টিক-পলিথিন ফেলে দিই, তা মাটি ও পানিতে অপচনশীল অবস্থায় মিশে যায়। দীর্ঘ সময় পরিবেশে অবস্থানের ফলে প্লাস্টিক দ্রব্যাদি মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয় এবং সরাসরি প্রাণীর খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে। ফলে মানবজাতি ও প্রাণিকুল নানা ধরনের প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ’বিজ্ঞানীরা মায়ের বুকের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন। তাই প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারে তাঁদের উদ্যোগী হতে হবে। প্লাস্টিকের মাইক্রোকণা নিউরনের সঙ্গে মিশে নিউরন, তথা মস্তিষ্ককে অকার্যকর করে তোলে। স্বাভাবিক চিন্তাশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। প্লাস্টিক ও পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলছে। এ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আগে লোকজন বাজার-সদাই করতে খাড়াই (বাঁশ-বেতের ঝুড়ি), কাপড়, চট দিয়ে তৈরি ব্যাগ নিয়ে বাজারে যেতেন। এখন খালি হাতে যান। ফিরে আসেন পলিথিন, প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে। এটা বন্ধ করতে হলে আগের অভ্যাসে ফিরে যেতে হবে। তাহলে পলিথিনের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমে যাবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচলনামূলক অভিযানের অনুষ্ঠান শেষে কুইজ প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন জাওয়াদ আল রুম্মান, দ্বিতীয় মালিহা মৌমিতা ও তৃতীয় আফরোজা খানম। বক্তব্য প্রতিযোগিতায় প্রথম মাইয়া ফারিহা শিমু, দ্বিতীয় মালিহা তাবাচ্ছুম ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে দেবজ্যোতি কুন্ডু। সবশেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।