
মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চেলারাডাংঙা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আশাশুনি উপজেলার ঘোলা-ত্রিমহনী গ্রামের ‘সবুজ’ নামে এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বিয়ের আয়োজন করছিল তার পরিবার। গোপন সংবাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন।
পরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কিশোরীর পরিবারকে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব ও আইনগত পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রশাসনের বিষয়টি বুঝতে পেরে কনের পরিবার তাদের ভুল স্বীকার করে এবং বিয়ে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কর্মরত সাকিবুর রহমান বাবলা বলেন, “তথ্য পাওয়ার পর আমরা সরাসরি কনের বাড়িতে যাই। পরিবারকে আইনগত দিক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝানো হলে তারা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন এবং বিয়ের আয়োজন স্থগিত করেন।”
ঘটনাস্থলে ওসিসি প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিক, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সুপারভাইজার মো. আজিবুর রহমান, শিশু সুরক্ষাকর্মী মো. বাশিয়ার রহমান ও আফসানা আক্তার, ইউনিয়ন দফাদার বাসুদেব বিশ্বাস এবং উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম ও কো-অর্ডিনেটর সাবরিনা জেসমিন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন।

