
মোজাফফর রহমান:
বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহননের অপচেষ্টা নিয়ন্ত্রণে আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে হলুদ সাংবাদিকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহননের অপচেষ্টাও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
সাইবার অপরাধ দমনে সাইবার আইন-২০২৬ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হলেও মানুষের বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুনরায় একটি উপকমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব না দিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জমি নিবন্ধনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে ভালো পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। তাই প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। আগামীতে সারা দেশে এ পদ্ধতি চালু করা হবে।
বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে।
দেশে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সংকট রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে আমদানিকারক দেশগুলো থেকে এলএনজি ও সার আমদানি করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকট উত্তরণে দেশে সোলার বিপ্লব ঘটাতে হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতউল্লাহ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ডাবলুসহ জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
।।আদালতে বিচারক-জনবল
সংকট কাটাতে মন্ত্রীর আশ্বাস।।
এর আগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সভায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ, আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাতক্ষীরার আদালতগুলোতে বিচারক, জনবল ও অবকাঠামোর সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের স্থানীয় সমস্যাগুলো তারা শুনেছেন। এসব সমস্যা সমাধানে কী করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সভায় জানানো হয়, বর্তমানে সাতক্ষীরা জজশিপের বিভিন্ন আদালতে ১০টি বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কোনো বিচারক নেই। এ আদালতে প্রায় পাঁচ হাজার মামলা বিচারাধীন। সদর সরকারি জজ আদালতেও প্রায় এক বছর ধরে সিনিয়র সিভিল জজ নেই।এ ছাড়া সাতক্ষীরা জজশিপে প্রায় শতাধিক কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। নতুন আদালত সৃষ্টি হলেও পর্যাপ্ত এজলাস ও দাপ্তরিক কক্ষ নেই। লিগ্যাল এইড অফিসেও রয়েছে জনবল ও অবকাঠামোর সংকট।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাতক্ষীরায় নতুন ২৩টি কোর্ট সৃষ্টি করা হয়েছে। দ্রুত এসব আদালতে বিচারক ও স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হবে। বিচার বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বরাদ্দও দেওয়া হবে।
সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মাদক মামলার দ্রুত বিচার করতে হবে। মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে বিচারকদের কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। লিগ্যাল এইডকে জনবান্ধব করার পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে মামলাজট কমানোর কথাও বলেন তিনি।
বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ।

