
লিটন, স্টাফ রিপোর্টার ,উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরে বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই খাল, বিল ও কৃষিজমিতে দেশি প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছের বিচরণ বেড়েছে। দীর্ঘদিন পর এবার বিভিন্ন জলাভূমিতে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করলেও, এক শ্রেণির অসাধু জেলেদের নির্বিচার শিকারে এসব মা মাছ আবারও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঘূর্ণিঝড় আইলার পর উপকূলে দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জলাভূমি স্থানীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের ফলে শৈল, কৈ, লাটা, শিং, সরপুঁটি, মৌরলা-সহ বিভিন্ন দেশীয় মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট, মুন্সীগঞ্জের উত্তর কদমতলা কৃষি মাঠ, শ্রীফলকাটি, মথুরাপুর, আটুলিয়া ও কাশিমাড়ির খুঁটিকাটা বিলসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, শত শত মানুষ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে ডিমওয়ালা মা মাছ এবং রেণু পোনা নির্বিচারে আহরণ করছেন। এতে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে মাছের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে যে পরিমাণ দেশীয় ডিমওয়ালা মা মাছের প্রজনন দেখা যাচ্ছে, তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই উপকূলের খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় প্রজাতির মাছে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। এতে স্বল্প আয়ের কৃষক ও কৃষাণীরা সহজেই মাছ সংগ্রহ করে পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারবেন এবং জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে।
তারা অবিলম্বে ডিমওয়ালা মা মাছ আহরণ বন্ধ, নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ এবং এসব জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

