দৈনিক সাতনদী
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
    • রাজনীতি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • খুলনা
      • যশোর
        • বেনাপোল
        • শার্শা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • আন্তর্জাতিক
  • সাতক্ষীরা জেলা
    • সাতক্ষীরা সদর
    • তালা
    • কলারোয়া
    • পাটকেলঘাটা
    • আশাশুনি
    • দেবহাটা
    • কালিগঞ্জ
    • শ্যামনগর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • স্বাস্থ্য
    • করোনা ভাইরাস
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • শিক্ষা
  • সম্পাদকীয়
    • সাহিত্য
    • উপ-সম্পাদকীয়
    • মন্ত্রব্য প্রতিবেদন
শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি | রাত ৪:০৬
কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে চাই অভিন্ন পাঠক্রম
মংলা জোনাল কমান্ডার কোস্টগার্ডক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবাউল ইসলামের সাথে...
মাদকে ভাসছে কালিগজ্ঞের বন্দকাটি
কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
লন্ডন থেকে দেশে ফিরল ড. মনিরুজ্জামানের পরিবার
জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সাথে প্রবাসী...
গাজী নজরু‌লের সংসদ সদস্য পদ বা‌তি‌লের জন্য স্পিকার...
শ্যামনগরে দুই মাদক কারবারি আটক
কালিগঞ্জে বাল্যবিবাহও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আলোচনা সভা
মাদার নদীর উপর ব্রীজ করার দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন
দৈনিক সাতনদী
Banner
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
    • রাজনীতি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • খুলনা
      • যশোর
        • বেনাপোল
        • শার্শা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • আন্তর্জাতিক
  • সাতক্ষীরা জেলা
    • সাতক্ষীরা সদর
    • তালা
    • কলারোয়া
    • পাটকেলঘাটা
    • আশাশুনি
    • দেবহাটা
    • কালিগঞ্জ
    • শ্যামনগর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • স্বাস্থ্য
    • করোনা ভাইরাস
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • শিক্ষা
  • সম্পাদকীয়
    • সাহিত্য
    • উপ-সম্পাদকীয়
    • মন্ত্রব্য প্রতিবেদন
উপ-সম্পাদকীয়

কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে চাই অভিন্ন পাঠক্রম

কর্তৃক Satnadee Satkhira জুলাই ২৪, ২০২৬
জুলাই ২৪, ২০২৬ ০ কমেন্ট 8 ভিউস

অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মোঃ আবদুল্লাহ:

প্রতি বছর লাখো তরুণ চোখেমুখে একবুক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রাখে। কিন্তু চার-পাঁচ বছর পর যখন তারা একটি কাগুজে সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে বাস্তব পৃথিবীর মুখোমুখি হয়, তখন সেই রঙিন স্বপ্ন নিদারুণ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্যমতে, দেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী বর্তমানে বেকার। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সম্পূর্ণ কর্মহীন অবস্থায় হন্যে হয়ে চাকরির সন্ধানে ঘুরছে। তারুণ্যের এই সীমাহীন অপচয় ও বেকারত্বের অভিশাপ চিরতরে ঘোচাতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখন একটি আমূল কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মজগতে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করছে। কিন্তু পুঁথিগত বিদ্যা ও প্রায়োগিক দক্ষতার মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্য থাকায় তাদের অধিকাংশই যেমন কর্মহীন থাকছে, তেমনি কর্মক্ষেত্রে নিযুক্তরাও দক্ষতার অভাবে নিজেদের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। এ অবস্থায় আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দক্ষতাভিত্তিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান। উচ্চশিক্ষার এই কাঠামোগত পরিবর্তনের
প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আদি ধারণাকে বিশ্লেষণ এবং বর্তমান সংকটের মূলে তাকাতে হবে। প্রাক-শিল্পযুগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত অভিজাত শ্রেণির সামাজিকীকরণ এবং তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের জন্যই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়টি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের। ইন্টারনেটের অবারিত কল্যাণে তাত্ত্বিক জ্ঞান এখন সবার হাতের মুঠোয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গতানুগতিক পাঠদান কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কারখানায় পরিণত হতে হবে।
আমাদের জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা প্রয়োজন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের জিডিপির মাত্র ২.০ শতাংশ। এটা ইউনেস্কোর প্রস্তাবিত জিডিপির ৪-৬ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের চেয়ে অনেক নিচে। এত অপ্রতুল বরাদ্দ দিয়ে একটি টেকসই শিক্ষা কাঠামো ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ আশা করা একপ্রকার অলীক কল্পনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চরম খাদ্যসংকটের মাঝেও জাপান কেবল দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছিল। তারা নিখুঁত পূর্বাভাস করেছিল যে, আগামী ২০ বছরে রাষ্ট্রের ঠিক কোন কোন দক্ষতার প্রয়োজন হবে। আমাদেরও এখন সেই দূরদর্শিতা দেখিয়ে যুগান্তকারী কাঠামোগত মডেলের দিকে এগোতে হবে।
আমাদের দেশের স্নাতক পর্যায়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার পার্থক্য দূর করতে ‘টু প্লাস টু’ (২+২) মডেল প্রবর্তন করা এখন সময়ের দাবি। এই কাঠামোগত সংস্কারের প্রথম ধাপে, অর্থাৎ স্নাতক জীবনের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে একজন শিক্ষার্থী কেবল একাডেমিক তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করবে। এই সময়ে শিক্ষার্থী তার বিষয়ের মূল তত্ত্ব, নৈতিকতা এবং বর্তমান বিশ্বের জন্য অপরিহার্য ডিজিটাল লিটারেসি শিখবে। দুই বছর শেষে তাকে একটি ‘অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি’ প্রদান করা হবে। এই ডিগ্রির একটি চমৎকার সামাজিক সুবিধা রয়েছে। ঋণগ্রস্ত বা অসচ্ছল পরিবারের কোনো শিক্ষার্থী চাইলে এ পর্যায়ে একটি সম্মানজনক প্রস্থান নিয়ে অনায়াসেই মিড-লেভেল চাকরিতে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে তাকে আর সমাজের চোখে ‘ড্রপআউট’ তকমা নিয়ে ঘুরতে হবে না।
মডেলটির দ্বিতীয় ধাপে, অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে একাডেমিয়া, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের সমন্বয়ে গঠিত ‘ট্রিপল হেলিক্স’ মডেল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে। শিল্প খাতে প্রবেশের ঠিক আগে শিক্ষার্থীরা পেশাজীবীদের দ্বারা পরিচালিত ডিজিটাল মার্কেটিং বা ফিন্যান্সিয়াল মডেলিংয়ের মতো ৩-৪ সপ্তাহের শর্ট কোর্স সম্পন্ন করবে। এরপর তারা সরাসরি ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিস বা চুক্তিবদ্ধ চাকরিতে যুক্ত হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এই শিক্ষার্থীদের অর্ধেক বেতনে নিয়োগ দিতে পারবে, যা একদিকে তাদের নিজস্ব নিয়োগ খরচ কমাবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা প্রথাগত ব্যবস্থার চেয়ে অন্তত দুই বছর আগেই আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে পারবে। এই পর্যায়ে স্নাতক কোর্সের অন্তত ৪০ শতাংশ সরাসরি ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত হবে। উচ্চ বেকারত্বের দেশে বিদ্যমান রূঢ় বাস্তবতায় কেবল তাত্ত্বিক কাঠামোগত পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির সফল সমন্বয় নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদেরও প্রথাগত তত্ত্বের গণ্ডি ও একাডেমিক আভিজাত্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দীর্ঘদিনের আত্মোপলব্ধির জায়গা থেকে বলতে পারি, আমাদের অনেক শিক্ষকেরই ইন্ডাস্ট্রি থেকে বাস্তব জ্ঞান শেখার আগ্রহ বেশ কম। প্রস্তাবিত এই মডেলে শিক্ষকরা যেমন চাকরির বাজারের বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারবেন, তেমনি করপোরেট পেশাদাররাও শ্রেণিকক্ষের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হবেন। উদাহরণস্বরূপ, বাস্তব অভিজ্ঞতায় একজন কমার্শিয়াল ম্যানেজার ‘এলসি ম্যানেজমেন্ট’ যতটা নিখুঁতভাবে বোঝেন, কেবল বই পড়িয়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে তা শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি শেখানো অত্যন্ত কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের এই পারস্পরিক জানাবোঝাই শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ভ্যালু অ্যাড করতে সাহায্য করবে।
পারস্পরিক এই জানাবোঝাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং কার্যকর সমন্বয় সাধনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট টুলসের প্রয়োগ এখন অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস কমিটিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠন, ক্যাম্পাসে সরাসরি কোম্পানির অর্থায়নে যৌথ ইনকিউবেটর ও ল্যাব স্থাপন, বাস্তব সমস্যাভিত্তিক ক্যাপস্টোন প্রজেক্টের প্রচলন এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের ‘অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চর্চা শুরু করতে হবে। তবে এই সমন্বয়ের পথে কিছু বড় বাধাও রয়েছে। দ্রুত সিলেবাস আপডেটের সুযোগ না থাকা, শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরির বদলে কেবল গবেষণাপত্রকে প্রাধান্য দেওয়া এবং একাডেমিয়া ও করপোরেট খাতের মাঝে থাকা তীব্র আস্থার সংকট দূর করতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে যোগাযোগ ও নেতৃত্বের মতো সফট স্কিলসের চরম অভাব এবং দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের সঙ্গে কারিকুলামের সংযোগহীনতার মতো ঘাটতিগুলো সমাধান না করলে কোনো তাত্ত্বিক মডেলই বাস্তবে আলো দেখবে না।
এই সামগ্রিক মডেলকে দেশব্যাপী কার্যকর করতে পাঠক্রমের আমূল সংস্কার অপরিহার্য। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ‘ইউনিফাইড সিলেবাস’ বা অভিন্ন পাঠক্রম থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে, যেখানে সরকার বিশ্বের সেরা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এসে আউটকাম-বেসড এডুকেশন-নির্ভর কারিকুলাম তৈরি করবে। পাশাপাশি যেসব করপোরেট প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ দেবে, সরকার তাদের জন্য ১ শতাংশ কর রেয়াতের মতো আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) এখন থেকে কেবল ছাত্র ভর্তির পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির সন্তুষ্টির মানদণ্ডে প্রোগ্রামগুলোর অনুমোদন দিতে হবে, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমাদের তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় ও মূল্যবান সম্পদ। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, অর্থনীতির আসল চালিকাশক্তি কংক্রিটের চাকচিক্যময় অবকাঠামো নয়; বরং দক্ষ মানবসম্পদ। কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ আমাদের আর অবশিষ্ট নেই। এখনই চরম সাহসিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সঙ্গে ‘টু প্লাস টু’ এবং ‘ট্রিপল হেলিক্স’ মডেলের বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। তবেই তরুণদের মেধা ও অদম্য শক্তিকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করে একটি সত্যিকারের স্বনির্ভর, উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
♦ লেখক : শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা; পরিচালক, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (ওইঅ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এদিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘যারা জুলাই বিপ্লব নিয়ে তাচ্ছিল্য করে, তারা আসলে ছোট লোক’’। তিনি কাকে ‘ছোট লোক’ বললেন সেটা অবশ্য পরিষ্কার নয়।
একই দিন জাতীয় প্রেসক্লাবে আরেক আলোচনায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, ‘‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।’’ জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, ‘‘আমাদের সবার একটি যৌথ দায়বদ্ধতা রয়েছে, যাতে আমরা কোনোভাবেই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হই।’’
পরদিন সোমবার ‘জুলাইয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ নিয়ে রাজধানীতে এক সেমিনারে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বলেন, ‘‘জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে রাজনীতি করা যাবে না। কারণ জুলাইয়ের চেতনা আওয়ামী লীগের একাত্তরের তথাকথিত চেতনার মতো নয়। আওয়ামী লীগ একাত্তরের চেতনা বিক্রি করে গুম ও খুনের মাধ্যমে দেশে আধিপত্যবাদের রাজত্ব কায়েম করেছিল।’’
তার মানে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ই জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, জুলাই নিয়ে ব্যবসাটা তাহলে কে বা কারা করছে? সরকারি ও বিরোধী দলের বাইরে অন্য কেউ?
প্রসঙ্গত, চেতনার ব্যবসা লাগামহীন হয়ে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের আমলে। ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে পাড়ায়-মহল্লায়, অলিতে-গলিতে গড়ে উঠেছিল হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান—মানুষেরা যেগুলোর নাম দিয়েছিল ‘দোকান’। অর্থাৎ এসব চেতনার দোকান তৈরিই করা হয়েছিল ব্যক্তিগত নানা স্বার্থসিদ্ধির জন্য। তখন অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে নানারকম ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে তখন এগুলোকে বলা হতো ‘চেতনার ব্যবসা’। একইভাবে ধর্মীয় চেতনার নামেও নানারকম ফন্দিফিকির হয়েছে। এখনও এসব দোকান চালু আছে। তার সাথে চব্বিশের আগস্টের পরে যুক্ত হয়েছে জুলাই ব্যবসা তথা চেতনার নতুন দোকান।
তবে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা করা আর জুলাই চেতনার ব্যবসার মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেটি হলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ব্যবসা হয়েছিল মূলত নানারকম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থই ছিল প্রধান। কিন্তু জুলাই নিয়ে ব্যবসা বা জুলাই চেতনার পেছনে নানাবিধ ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বাইরেও একটি ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। সেটি হলো, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া তথা মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক হিসেবে খ্যাত ও স্বীকৃত বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ম্লান করা; তাকে বিতর্কিত করা; তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি—এই বয়ান প্রতিষ্ঠা করা।
এ বিষয়ে দ্বিমতের সুযোগ কম যে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যাদের অস্বস্তি আছে। একাত্তর যাদের পরাজয়ের গ্লানি স্মরণ করিয়ে দেয়—তারা শুরু থেকেই জুলাই অভ্যুত্থানকে একাত্তরের মুখোমুখি কিংবা একাত্তরের সমপর্যায়ের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ তারা জুলাই আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ বলে মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে চব্বিশের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। যে কারণে তারা ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ’ শব্দটিও ব্যবহার করে। সচেতনভাবেই তারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দগুলো জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গেও যুক্ত করে দেয়, যেমন গণহত্যা, শহীদ, বীরযোদ্ধা ইত্যাদি। অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিল রেখে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ বলেও অভিহিত করেছেন।
বস্তুত চব্বিশকে একাত্তরের সাথে তুলনা করার প্রবণতাটি শুরু হয়েছিল অন্তর্র্বতী সরকারের আমলেই। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের যেমন ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, সেরকম ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ নামে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক আন্দোলন বা সরকার পতনের আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ‘যোদ্ধা’ নাম দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে গেজেটভুক্ত করে স্বীকৃতি দেয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য রাষ্ট্র যে কিছু বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল, যেমন মাসিক ভাতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সরকারি চাকরিতে তাদের সন্তানদের অগ্রাধিকার—সেভাবেই জুলাইযোদ্ধাদেরও মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধারাও মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। তাদের সঙ্গে মিল রেখে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোকেও একই অঙ্কের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়ের সীমাও অভিন্ন করা হয়েছে। অর্থাৎ নানাভাবেই জুলাইযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের জন্য সরকার চাইলে অন্য কোনও উপায় বের করতে পারতো।
মুক্তিযুদ্ধের নামে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। কিন্তু অন্তর্র্বতী সরকার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বানিয়েছে, তাও গণভবনের মতো একটি স্থাপনায়, যেটি একসময় প্রধানমন্ত্রীদের বাসভবন ছিল। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর অন্যত্রও হতে পারতো। অর্থাৎ অন্তর্র্বতী সরকারের নানা উদ্যোগেই এটা মনে হয়েছে যে তারা সচেতনভাবেই চব্বিশকে একাত্তরের সমপর্যায়ে নিয়ে যেতে চেয়েছে।
এটা বলা অমূলক হবে না যে একাত্তর নিয়ে যাদের অ্যালার্জি আছে; একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যাদের অস্বস্তি আছে; মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলের ব্যাপারে যাদের ভীতি আছে—তারাই জুলাই অভ্যুত্থানকে একাত্তরের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং করছে। সেইসাথে জুলাই নিয়ে নানাবিধ ব্যবসার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আসছে। তবে তবে আশার সংবাদ হলো, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই জুলাই নিয়ে ব্যবসার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হচ্ছে।
মনে রাখতে হবে, ৭১, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ব্যবসা তথা চেতনার রাজনীতি করেও আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। এই অভ্যুত্থানের পেছনে বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র ছিল বলে যে তত্ত্বই দাঁড় করানো হোক না কেন, আওয়ামী লীগ যে শেষ বছরগুলোয় গণবিরোধী হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং তার পতনের পেছনে এটিই যে প্রধান কারণ—সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সুতরাং, চব্বিশের ৫ আগস্টের পরে যারা জুলাই চেতনার দোকান খুলে নানারকম ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছেন, এগুলোও ক্ষণস্থায়ী। বরং চব্বিশকে একাত্তরের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত ছিল বলে যে বয়ান রয়েছে, সেটিই প্রতিষ্ঠিত হবে। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে আওয়ামী লীগ ও তথা শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি শক্তির উত্থানের জন্যই জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে। মানুষের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হলে তার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে জুলাই ম্লান হয়ে যাবে এবং এই অভ্যুত্থানের সাথে যুক্ত মানুষেরা বিতর্কিত হবেন।
সুতরাং, যেকোনও চেতনার নামে ব্যবসা শুরুর আগে তার পরিণতি নিয়ে ভাবা জরুরি। জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, এটি যেমন অস্বীকারের সুযোগ নেই, তেমনি কেউ যদি ইতিহাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মনে করেন যে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে; দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং তারা যদি চব্বিশের এই আন্দোলনকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বা নানারকম বয়ান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ’ এবং শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাননি—এসব উদ্ভট তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাতে আখেরে তারা নিজেরাই হাস্যরসের পাত্রে পরিণত হবেন। কারণ দেশে-বিদেশে হাজার হাজার বইপত্র ও গবেষণায় লেখা রয়েছে যে ১৯৭১ সালে এই দেশে কী হয়েছিল; কার ডাকে এই দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল; এই যুদ্ধে কার কী অবদান। সুতরাং, হঠাৎ করে নতুন কোনও বয়ান দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জনকে ম্লান করে দেওয়া তো যাবেই না, বরং জুলাই অভ্যুত্থান যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, সেই সুযোগটিই বরং হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। আমীন আল রশীদ: সাংবাদিক ও লেখক

০ কমেন্ট
0
FacebookTwitterPinterestEmail
পূর্ববর্তী পোস্ট
মংলা জোনাল কমান্ডার কোস্টগার্ডক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবাউল ইসলামের সাথে নবাগত খুলনা রেঞ্জ ডি.আইজির মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মতবিনিময়।

রিলেটেড পোস্ট

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

জুলাই ২২, ২০২৬

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে ফেসবুক স্টাটাসে যা বললেন...

জুলাই ২১, ২০২৬

কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে চাই অভিন্ন পাঠক্রম

জুলাই ১৬, ২০২৬

একটি স্বপ্ন, একটি পরিকল্পনা, একটি ভবিষ্যৎ ——কামাল উদ্দিন

জুন ২৭, ২০২৬

কক্সবাজার ক্লাব: বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের পথে আমাদের অঙ্গীকার একটি...

জুন ২৭, ২০২৬

পিআইবির প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরায় এসে যা বললেন সাংবাদিক সাইদুর...

জুন ২৬, ২০২৬

ভূ-অর্থনীতি ও আগামীর সম্ভাবনা

জুন ২৩, ২০২৬

“এজাহার আছে, আহত মানুষ আছে, সংবাদ সম্মেলন আছে—তবুও...

জুন ২৩, ২০২৬

আজ আমি কাঠগড়ায়, কাল হয়তো আপনি

মে ৯, ২০২৬

মতামত দিন উত্তর বাতিল করুন

You must be logged in to post a comment.

সম্পাদকীয় কার্যালয়

একাডেমী মসজিদ সড়ক
মুনজিতপুর, সাতক্ষীরা ।
মোবাইল: ০১৭১১-৪৫০০২৫
ই-মেইল: dailysatnadee@gmail.com

ফেসবুকে নিউজ পেতে পেজ লাইক দিন।

Facebook
  • Facebook
  • Twitter
  • Youtube

© ২০২৩ দৈনিক সাতনদী । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। কারিগরি সহযোগিতাঃ Site Hosted and Developed By Deshi Hosting