দৈনিক সাতনদী
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
    • রাজনীতি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • খুলনা
      • যশোর
        • বেনাপোল
        • শার্শা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • আন্তর্জাতিক
  • সাতক্ষীরা জেলা
    • সাতক্ষীরা সদর
    • তালা
    • কলারোয়া
    • পাটকেলঘাটা
    • আশাশুনি
    • দেবহাটা
    • কালিগঞ্জ
    • শ্যামনগর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • স্বাস্থ্য
    • করোনা ভাইরাস
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • শিক্ষা
  • সম্পাদকীয়
    • সাহিত্য
    • উপ-সম্পাদকীয়
    • মন্ত্রব্য প্রতিবেদন
বুধবার | ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি | রাত ২:১০
ভূ-অর্থনীতি ও আগামীর সম্ভাবনা
“এজাহার আছে, আহত মানুষ আছে, সংবাদ সম্মেলন আছে—তবুও...
আশাশুনিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, আহত- ৪
আশাশুনিতে পানি কমিটির সদস্যদের নিয়ে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
খুলনায় মালিকের হাতে ফিরল ৫০টি হারানো মোবাইল ফোন
নোয়াখালীতে আ.লীগের ১২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
শ্যামনগরে জেন্ডার রেসপনসিভ গভর্নেন্স বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
 দেবহাটায় ভারতীয় গলদা চিংড়ি রেনু জব্দ, খালে অবমুক্ত
কালিগঞ্জে আটক আনিসুরের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা
সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে সংবর্ধনা ও মতবিনিময়...
দৈনিক সাতনদী
Banner
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
    • রাজনীতি
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • খুলনা
      • যশোর
        • বেনাপোল
        • শার্শা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • সিলেট
    • বরিশাল
    • ময়মনসিংহ
    • রংপুর
  • আন্তর্জাতিক
  • সাতক্ষীরা জেলা
    • সাতক্ষীরা সদর
    • তালা
    • কলারোয়া
    • পাটকেলঘাটা
    • আশাশুনি
    • দেবহাটা
    • কালিগঞ্জ
    • শ্যামনগর
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • স্বাস্থ্য
    • করোনা ভাইরাস
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • শিক্ষা
  • সম্পাদকীয়
    • সাহিত্য
    • উপ-সম্পাদকীয়
    • মন্ত্রব্য প্রতিবেদন
উপ-সম্পাদকীয়

ভূ-অর্থনীতি ও আগামীর সম্ভাবনা

কর্তৃক Satnadee Satkhira জুন ২৩, ২০২৬
জুন ২৩, ২০২৬ ০ কমেন্ট 9 ভিউস

অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ: বর্তমান একুশ শতকের পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভূ-রাজনীতি এখন রূপ নিয়েছে ভূ-অর্থনীতিতে। যুদ্ধবিগ্রহ, পরাশক্তিগুলোর বাণিজ্য যুদ্ধ এবং মহামারি-পরবর্তী পৃথিবীতে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন বা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে রূপ বদলাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল এবং চরম প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক সমীকরণে সামান্য বিচ্যুতির কারণেও একটি দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ঠিক এই ভূ-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেই সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মালয়েশিয়া সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এশীয় শতাব্দীর এই সন্ধিক্ষণে এটি বাংলাদেশের ‘লুক ইস্ট’ বা পূর্বমুখী অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি যুগান্তকারী টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

আশির দশকে মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর ভরসা করতে ‘লুক ইস্ট পলিসি’ বা পূর্বমুখী নীতি গ্রহণ করেছিলেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, কঠোর কর্মসংস্কৃতি এবং শিল্পায়নের সফল মডেলকে নিখুঁতভাবে নিজেদের দেশের উপযোগী করে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই মালয়েশিয়া একসময় নিজেকে বিশ্বমঞ্চে ‘এশিয়ান টাইগার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য এই নীতির অর্থ হলো আসিয়ানভুক্ত উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে নিজেদের সংযোগকে আরও গভীর ও সুসংহত করা। মালয়েশিয়া যেভাবে জাপানি পুঁজি ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নিজেদের দ্রুত শিল্পায়ন ঘটিয়েছিল, বাংলাদেশকেও ঠিক একই কৌশল অবলম্বন করতে হবে। মালয়েশিয়ার উদ্বৃত্ত পুঁজি, হাই-টেক অবকাঠামোগত অভিজ্ঞতা এবং বিশ্ববাজারে বাণিজ্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে কীভাবে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তা এই সফরের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার বন্ধন ঐতিহাসিক। ধর্ম, সংস্কৃতি ও আবহাওয়ার মিলসহ দেশ দুটির মধ্যে রয়েছে এক অকৃত্রিম ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ১৯৭২ সালে মালয়েশিয়াই প্রথম আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সেই সম্পর্ককে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুদূরপ্রসারী ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ রূপান্তর করার মোক্ষম সময় এসেছে। এই রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হলে আমাদের মালয়েশিয়ার বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির ভেতরের চিত্রটি অনুধাবন করতে হবে। আশির ও নব্বইয়ের দশকে চমৎকার প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও মালয়েশিয়া বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির একটি বহুল চর্চিত ফাঁদ, যা ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ নামে পরিচিত, তা এড়ানোর জন্য তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের বিশাল উত্থান এবং পাশেই ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী ও সস্তা শ্রমের অর্থনীতির কারণে মালয়েশিয়ার স্থানীয় উৎপাদন খাত বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

জাপানি অর্থনীতিবিদ কানামোরির বিখ্যাত ‘ফ্লাইং গিজ প্যারাডাইম’ বা উড়ন্ত হাঁসের তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি অগ্রসর অর্থনীতি যখন প্রযুক্তিগতভাবে ওপরের ধাপে উন্নীত হয়, তখন তার শ্রমঘন শিল্পগুলোকে অপেক্ষাকৃত কম মজুরির ও বিশাল জনসংখ্যার দেশে স্থানান্তর করতে হয়। মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে তিন কোটির কাছাকাছি এবং তাদের সমাজ ব্যবস্থা দ্রুত বয়স্ক হওয়ার দিকে এগোচ্ছে, যার ফলে তাদের পক্ষে এখন আর সস্তা শ্রমের ওপর ভিত্তি করে শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। নিজেদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে টিকে থাকতে তাদের এখন এমন একটি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার প্রয়োজন, যার বিশাল তরুণ জনবল ও একটি বড় অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার উদ্বৃত্ত পুঁজি ও উচ্চ প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ ও পরবর্তীকালে ডেভিড রিকার্ডো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে চমৎকার ভিত্তি দাঁড় করিয়েছিলেন, সেই ‘কম্পারেটিভ অ্যাডভান্টেজ’ বা তুলনামূলক সুবিধার তত্ত্বের আলোকেই দুই দেশের এ সমীকরণটি সম্পূর্ণ নিখুঁত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির মূল কথাই হলো একে অপরের শূন্যস্থান পূরণ করা। মালয়েশিয়ার বিপুল পুঁজি, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, হাই-টেক অবকাঠামো এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিপরীতে বাংলাদেশের রয়েছে ১৮ কোটি মানুষের বিশাল ও ক্রমবর্ধনশীল ভোক্তা বাজার, জনমিতিক লভ্যাংশ এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি অত্যন্ত কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো দ্বিপাক্ষিক ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ (এফটিএ)। ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই চুক্তি বাংলাদেশের পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আসিয়ান ব্লকে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হতে কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের এককেন্দ্রিকতা কাটাতে মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর (পেনাং) শিল্পের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। বৈশ্বিক চিপ প্যাকেজিংয়ের ১৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী মালয়েশিয়ার এই শ্রমঘন হাই-টেক শিল্পের একাংশ বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে স্থানান্তর করা গেলে প্রযুক্তি খাতের চেহারা বদলে যাবে। এর পাশাপাশি জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতাসহ বিশ্বব্যাপী ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল বাজার ধরতে মালয়েশিয়ার সহায়তায় যৌথ উদ্যোগ গঠন এই সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার।

মানবসম্পদ ও জনযোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সফর প্রবাসী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করতে হবে। শ্রমবাজারের অদৃশ্যমান সিন্ডিকেট ভেঙে একটি স্বচ্ছ ও ডিজিটালাইজড জি-টু-জি (G2G) কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ মসৃণ করার পাশাপাশি সনাতনী অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে মালয়েশিয়ার আইটি, নার্সিং ও হাই-টেক খাতের জন্য দক্ষ বা ‘হোয়াইট-কলার’ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দিতে হবে। অন্যদিকে, দেশের শিল্পায়ন অব্যাহত রাখতে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ‘পেট্রোনাস’র সাথে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে তাদের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই সুসংহত হবে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হলেও বর্তমানে তাদের বিপুল পরিমাণ উর্বর কৃষি জমি পতিত অবস্থায় রয়েছে। মালয়েশিয়া থাইল্যান্ডের সফল ‘অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ মডেল অনুসরণ করে এবং বাংলাদেশের দক্ষ শ্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের বিশাল পতিত জমিকে একটি বৈশ্বিক কৃষি রপ্তানি হাবে রূপান্তর করতে পারে। থাইল্যান্ডের কৃষি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের কঠোর ‘গ্লোবাল গ্যাপ’ সার্টিফিকেট, সমন্বিত সাপ্লাই চেইন ও স্মার্ট ফার্মিং। এই সমীকরণে মালয়েশিয়াকে তাদের সারাওয়াক, সাবাহ বা কেদাহ রাজ্যের বিশাল পতিত জমিকে ‘বিশেষ অর্থনৈতিক কৃষি অঞ্চল’ ঘোষণা করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষায়িত সংস্থা বা শীর্ষস্থানীয় এগ্রো-কর্পোরেট ও স্বাধীন উদ্যোক্তারা স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যৌথ উদ্যোগে এই পতিত জমিগুলো দীর্ঘমেয়াদে লিজ নিতে পারে।

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সরবরাহ করবে মালয়েশিয়া, আর বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হবে সাধারণ কৃষি শ্রমিকের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ও দক্ষ যুবকদের নিয়ে গঠিত ‘স্মার্ট ফার্মিং স্কোয়াড’। উৎপাদিত ফসলের মাঠপর্যায়ের গ্রেডিং, সর্টিং এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ ও যৌথ ব্র্যান্ডিংয়ে প্রধান ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশিরা। মালয়েশিয়া যদি বিশ্বমানের ফাইটোস্যানিটারি ও হালাল সার্টিফিকেশন ল্যাব তৈরি করে, তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ইউরোপ, আমেরিকা এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল হালাল খাদ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশ করতে পারবে। এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে হলে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘কৌশলগত কৃষি অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে হবে।

ঐতিহ্যগত এই খাতগুলোর পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিস্তারকারী ক্ষেত্র হতে পারে স্বাস্থ্য, উচ্চশিক্ষা এবং পর্যটন খাত। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ উন্নত চিকিৎসার খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমায়, যার ফলে দেশের একটি বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যায়। এই চিকিৎসা পর্যটন ও অর্থপাচার রোধ করতে মালয়েশিয়ার বিশ্বমানের হাসপাতাল এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা খাতের অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে। মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় হেলথকেয়ার গ্রুপগুলোর বিনিয়োগ ও যৌথ অংশীদারিত্বে যদি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত চিকিৎসা অবকাঠামো ও হাসপাতাল গড়ে তোলা যায়, তবে দেশের ভেতরেই সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক চিকিৎসা পাবে এবং বিদেশে রোগী যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও প্রবণতা কমে যাবে।

একইভাবে, শিক্ষা খাতেও এক নতুন দিগন্তের সূচনা করা সম্ভব। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা এক ধরনের মারাত্মক মেধাপাচার বা ‘ব্রেন ড্রেন’ তৈরি করছে। এই সংকট উত্তরণে মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শাখা ক্যাম্পাস বাংলাদেশে স্থাপনের জন্য বিশেষ নীতিগত প্রণোদনা এবং লজিস্টিক সহায়তা প্রস্তাব করা যেতে পারে। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা স্থাপিত হলে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে, যা একদিকে মেধাপাচার রোধ করবে এবং অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী এক বিশাল দক্ষ ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন স্থানীয় জনশক্তি তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও মালয়েশিয়ার সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটনবান্ধব দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আতিথেয়তা শিল্পের দক্ষ ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা বাংলাদেশের কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন, বান্দরবনের মতো অবারিত সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবং আধুনিক বিনোদন ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণে মালয়েশিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও রিসোর্ট চেইনের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা আমাদের পর্যটন খাতের চেহারা বদলে দেবে। ভৌগোলিক নৈকট্য, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গভীর সাংস্কৃতিক বোঝাপড়ার কারণে এই খাতগুলোতে যৌথ উদ্যোগ ও অংশীদারিত্ব গ্রহণ করা আসিয়ানভুক্ত অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে মালয়েশিয়ার সাথে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত এবং উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও ফলপ্রসূ হবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরটিকে ভবিষ্যৎমুখী এক দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপে রূপ দিতে হবে। বাংলাদেশের এখন আর সাহায্য বা অনুদানের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। আমাদের এমন একটি ব্যবসাবান্ধব ইকোসিস্টেম এবং লজিস্টিক অবকাঠামো তৈরি করতে হবে যেখানে মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থেই বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে। মালয়েশিয়ার ‘লুক ইস্ট পলিসি’ এবং বাংলাদেশের ভিশনারি অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোকে যদি এক সুতোয় গাঁথা যায়, তবে ঢাকা-কুয়ালালামপুর সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক গণ্ডিতে না থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অনুকরণীয় অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করবে।

লেখক : পরিচালক, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

০ কমেন্ট
0
FacebookTwitterPinterestEmail
পূর্ববর্তী পোস্ট
“এজাহার আছে, আহত মানুষ আছে, সংবাদ সম্মেলন আছে—তবুও মামলা নেই! খুলশী থানার নীরবতা কি কোনো প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে?

রিলেটেড পোস্ট

“এজাহার আছে, আহত মানুষ আছে, সংবাদ সম্মেলন আছে—তবুও...

জুন ২৩, ২০২৬

আজ আমি কাঠগড়ায়, কাল হয়তো আপনি

মে ৯, ২০২৬

সংবাদকর্মীদের রক্ত ঝরল প্রেসক্লাবের সামনে: ইতিহাসে যুক্ত হলো...

জুন ৩০, ২০২৫

তারুণ্যের বই মেলায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ব্যানার পোড়ানো এ...

মার্চ ২৫, ২০২৫

তৎকালীন একটি সরকারী সংস্থার চাপে শেখ হাসিনার গাড়িবহর...

মার্চ ২২, ২০২৫

রাজনীতিতে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে কখনোই জননেতা হওয়া...

মার্চ ২০, ২০২৫

বিএনপি বারবার মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন হয়েছে

মার্চ ১৮, ২০২৫

বাংলাদেশের মৎস্য শিল্প: সংকট না সম্ভাবনা?

মার্চ ৮, ২০২৫

প্রশংসা করলেই বখে যায়, তুচ্ছতা শেখে?

মার্চ ৪, ২০২৫

মতামত দিন উত্তর বাতিল করুন

You must be logged in to post a comment.

সম্পাদকীয় কার্যালয়

একাডেমী মসজিদ সড়ক
মুনজিতপুর, সাতক্ষীরা ।
মোবাইল: ০১৭১১-৪৫০০২৫
ই-মেইল: dailysatnadee@gmail.com

ফেসবুকে নিউজ পেতে পেজ লাইক দিন।

Facebook
  • Facebook
  • Twitter
  • Youtube

© ২০২৩ দৈনিক সাতনদী । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। কারিগরি সহযোগিতাঃ Site Hosted and Developed By Deshi Hosting