
শেখ এনামুল বাসার টিটো,ডুমুরিয়া,খুলনা:চুকনগরের আপার ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কারণে উচ্ছেদ হওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় ফুটবল মাঠে। প্রখর রোদ বৃষ্টিতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ কয়েকশ মানুষ করছে মানবেতর জীবনযাপন।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে আপার ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কারণে উচ্ছেদ হওয়া চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪৭টি পরিবারের মধ্যো বিরাজ করছে চরম হতাশা। দীর্ঘদিনের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে হতভম্ব হযে পড়েছে উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দারা। বর্তমানে উচ্ছেদ হওয়া ১৪৭টি পরিবারের অস্থায়ী আশ্রয় মিলেছে স্থানীয় চুকনগর রয়েল স্পোর্টিং ফুটবল মাঠে। সেখানে খোলা আকাশের নিচে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ কয়েকশ মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সরেজমিনে ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর রয়েল স্পোর্টিং ফুটবল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের এক প্রান্তে টিন, পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে ছোট ছোট অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে কোনমতে জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগীরা। সেখানে নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন কিংবা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। গত কয়েক দিনের তীব্র গরম এবং আকস্মিক ঝড় বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রান্নার পরিবেশ না থাকায় অনেক পরিবারকে অনাহারে কাটাতে হচ্ছে দিন । অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করায় অনেকে অসুস্থ হযে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রেশমা বেগম, পারুল বেগম, টুনি বেগম আজিজুল গাজী অতি ক্ষোভের সহিত বলেন, নদী খননের জন্য আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমাদের স্থায়ীভাবে থাকার জন্য বিকল্প কোন জায়গা দেওয়া হয়নি। ঘর উচ্ছেদের পর আমরা কোন উপায়ান্তর না পেয়ে চুকনগর রয়েল স্পোর্টিং ফুটবল মাঠে আশ্রয় নিয়েছি। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা ভিজে পুড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছি। খোলা মাঠে রান্না করা বা ঘুমানোর কোনো পরিবেশ নেই। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে দূর্বিসহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চাই।
আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, আপার ভদ্রা নদী খনন সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প। তবে এই প্রকল্পের কারণে হঠাৎ করে ১৪৭টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ায় একটি মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করছি এবং করে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি।
ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ও চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন বলেন,নদী খননের কারনে দীর্ঘদিন গৃহহীন ও শ্রমজীবী মানুষগুলো যাযাবরের ন্যায় জীবনযাপন করছে।আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় আলহাজ্ব আলী আজগর লবী নির্বাচনের আগে ও পরে একাধিকবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।আশা করি তিনি খুবই দ্রুত সময়ে গৃহহীনদের জন্য একটা সুন্দর আবাসনের ব্যবস্হা করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার জানান, আপার ভদ্রা নদী খনন জনস্বার্থে এবং ওই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত জরুরি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের এই সাময়িক কষ্টের বিষয়টি আমরা অবগত আছি এবং তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। তাদের জন্য বিকল্প আবাসন বা স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক নদীর খননকৃত মাটি প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়েছে এবং মাটি সরানোর কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। আশা করছি দ্রুতই একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে।
এলাকার সূধীমহল মনে করেন, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষগুলোর মৌলিক অধিকার ও আশ্রয় রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানের পথ না মেলায় উচ্ছেদ হওয়া এই নিঃস্ব পরিবারগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা। একারণে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

