
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুজিববর্ষের আগেই দুর্নীতিমুক্ত সবুজ সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে হয়রানিমুক্ত পুলিশ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি করতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষা পরিহার করে কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিলে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। জনগণ সেবার জন্য দপ্তরে ধর্ণা দেবে না। সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এতেই মুজিব বর্ষে সাতক্ষীরা একটি মডেল জেলা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মুজিব বর্ষে তারুণ্যের ভাবনা শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা এভাবেই তাদের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের ভাবনা শুনে জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সরকার জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতিমুক্ত সাতক্ষীরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিস পর্যন্ত দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কোন অফিসে যদি কেউ দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হয়, সাধারণ মানুষের সাথে যদি কোন কর্মকর্তা অসদাচারণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকলের প্রচেষ্টায় একটি আদর্শ দুর্নীতিমুক্ত সবুজ সাতক্ষীরা গড়ে তোলা হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ অফিস থেকে মানুষ সরাসরি সেবা নেয়। ইতোমধ্যে এই দুটি অফিসকে সতর্ক করা হয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ ইটভাটা মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। যাদের ভাটার লাইসেন্স নেই, পরিবেশ দূষণ করছে তাদের তিনদিনের মধ্যে ভাটা অপসারণ করে নিতে বলা হয়েছে। না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হবে। যারা উন্নয়নে বাঁধা হবে, দুর্নীতিতে যুক্ত হবে, তাদের সমূলে উৎপাটন করা হবে।
জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠতে হবে।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত সংলাপে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজহার আলী, জুবায়ের হোসন, ঝাউডাঙ্গা কলেজের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।