
প্রমথ সানা, পাইকগাছা থেকে: উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিকূল আবহাওয়া ও মাটির ক্ষতিকর লবণাক্ততাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন খুলনার পাইকগাছার উদ্যোক্তা জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের মটবাটি গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস পেশায় একজন সাবেক ব্যাংকার। এলাকায় তিনি রুচিশীল ও সৌখিন মানুষ হিসেবে পরিচিত। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর অবসর সময়কে কাজে লাগাতে শখের বসে নিজ বাড়ির পাশে ৫ বিঘা জমিতে তিনি মাল্টার বাগান গড়ে তোলেন। আর সেই শখের বাগানই আজ সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কল্যাণে পরিণত হয়েছে একটি লাভজনক বাণিজ্যিক প্রকল্পে।
তার ৫ বিঘা জমির এই সবুজ বাগানে বর্তমানে রয়েছে *‘বারি মাল্টা-১’ জাতের ৭০১টি ফলবন্ত গাছ।* বাগানটির নিবিড় পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় সফল কৃষক লুৎফর রহমান সানা (লুতু)। বাংলাদেশের জলবায়ু উপযোগী, বড় আকারের, রসালো, মিষ্টি ও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় তিনি এই জাতটি বেছে নেন। বিশেষ করে উপকূলের চরম লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি উঁচু করে বেড তৈরি, সুনির্দিষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুষম জৈব ও রাসায়নিক সারের প্রয়োগ করেছেন।
এ বিষয়ে উদ্যোক্তা জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “উপকূলীয় প্রতিকূল আবহাওয়ায় শখের বশে বাগানটি শুরু করলেও আজ তা বাণিজ্যিক রূপ পেয়েছে। বাজারে মাল্টার ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের এই লবণাক্ত অঞ্চলেও মাল্টা চাষে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে সনাতন ফসলের বাইরে আধুনিক ফল চাষ বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রযুক্তিগত নির্দেশনা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে জিয়া বিশ্বাস যেভাবে বারি মাল্টা-১ চাষে সাফল্য পেয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর এই উদ্যোগ এই অঞ্চলে ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
বর্তমানে বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ মাল্টা। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, গত মৌসুমে প্রায় ৭ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হলেও এবার বাম্পার ফলন ও চড়া বাজার দরের কারণে বিক্রি ১৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঐতিহ্যগত ধান ও চিংড়ি চাষের বাইরে তার এই সাফল্য প্রান্তিক কৃষক ও তরুণ প্রজন্মকে কৃষি-উদ্যোক্তা হতে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

