
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী মোজাফফর গার্ডেন(মন্টু মিয়ার বাগানবাড়ী)সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছী গ্রামের আশা গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এদিকে প্রেমিক বিদেশ পালিয়ে গেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার সকালে ওই গৃহবধূ অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি দাবী করেন, ‘স্বামী সন্তান থাকা স্বত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে মনিরুল ইসলাম আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল ইসলাম সাতক্ষীরার মন্টু মিয়ার বাগান বাড়িতে ৪৫০০ টাকা দিয়ে রুম ভাড়া নিয়ে আমাকে ধর্ষণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন পার্কে এবং তার নিজের বাড়িতে নিয়েও আমাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি এবং ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক এন্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমাকে পরীক্ষা করিয়ে গর্ভাবস্থার সত্যতা (পজিটিভ রিপোর্ট) নিশ্চিত হয় মনিরুল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আমাকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত (অ্যাবশন) করানো হয়। পরবর্তীতে সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করে মনিরুল গোপনে বিদেশ চলে গেছেন।’
আপনি এখন কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি বলেন, আমাকে স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার ব্যবহার করেছে। তার জন্য আমি স্বামী সন্তান ছেড়েছি। সে যদি আমাকে বিয়ে না করে তবে আমি আ-ত্মহত্যা করবো।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় স্মৃতি কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। স্থানীয়দের পরামর্শে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অধিকার ও স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে আসেন স্মৃতি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবার ওই ওয়ার্ডের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোজাফফর গার্ডেন (মন্টুমিয়ার বাগান বাড়ী) এর ম্যানেজার পারভেজ বলেন, ‘আইডি কার্ড ও বিয়ের কাবিননামা ছাড়া কোন কাপলের কাছে রুম ভাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। ওই মেয়ে মিথ্যা বলছে।’
কলারোয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

