
নিজস্ব প্রতিবেদক:সাতক্ষীরার তালায় জমিজমা সংক্রান্তে বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাইদের হামলার শিকার হয়ে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন নাজমুল হক (৫২) নামের অপর ভাই। হামলাকারী ভাইদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে তার অভিযোগ আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এক অজ্ঞাত কারণে তাদের কাউকে গ্রেফতার করছেনা।এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মামলায় বলা হয়, তালা সদরের মহল্লাপাড়া এলাকার মৃত কাজী হাবিবুল হক’র ছেলে কাজী নাজমুল হক’র সাথে পৈত্রিক জমি-জমা বন্টন সংক্রান্তে দীর্ঘ দিন ধরে সহোদর কাজী মাজিদুল হক ও কাজী মনিরুল হক’র সাথে মনোমালিন্য চলে আসছিল।
ঘটনার দিন গত ৭ জানুয়ারী দুপুর আড়াইটার দিকে নাজমুল পৈত্রিক স্বত্ত্ব দখলীয় সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে তার কিছু ইট পাশের জমিতে নেওয়ার সময় তার দু’ভাই, ভাইপো ও ভাইপোরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তাকে ধরে ব্যাপক মারপিট ও ধারালো অস্ত্রাঘাতে কুপিয়ে মারাতœক যখম করে। এসময় ঠেকাতে গেলে তার মেয়ে কাজী মারিয়া (২১) কেও ব্যাপক মারপিট ও মাথার চুল ছিঁড়ে নেয়। এসময় তার আতœচিৎকারে নাজমুলের স্ত্রী নাজমুন্নাহার (৪০) সহ অন্যান্য ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে আসলে তারা তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
এসময় তারা তার শিশু ছেলে নওশাদ (৭) কেও ছাড় দেয়নি। এসময় তারা তাদেরকে মারপিট করে তাদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয়। এসময় তাদের আতœচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিযে আসলে তারা এ ঘটনায় কোথাও মামলা না করতে জীবননাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।আহতদের উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে না নেওয়ায় গত ১৪ জানুয়ারী বিজ্ঞ আমলী আদালত, সাতক্ষীরা-৩ এ কাজী মাজিদুল হক (৫৩) কে আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। যার নং- সিআর-১২/২৬।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারী মামলাটি এফ,আই.আর হিসেবে গ্রহনকরত পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের জন্য তালা অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। এরপর তালা থানায় উদ্বুধ মামলা নং- ১৩। তাং-১৯/১/২৬ ইং।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ মামলাটি তদন্ত করতে থানার এসআই জিহাদ হোসেন মুন্সিকে প্রদান করলেও পুলিশ অদ্যাবধি আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
বাদীর অভিযোগ, আদালত ও পরে থানায় মামলা করায় বিবাদী পক্ষ তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন তারা।
এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যাবস্থগ্রহনে স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

