
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়ায় মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ারের টানে কাঠের সাঁকো ভেসে গেছে। এলাকার মানুষ সীমাহীন দুর্গতির শিকার হয়েছে। এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছেন।
শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া ও বুধহাটা ইউনিয়নে কুন্দুড়িয়া গ্রামের মাঝে মরিচ্চাপ নদীর উপর জনগুরুত্বপূর্ণ কংক্রিট ব্রীজ নির্মান করা হয়েছিল ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে। এলাকার ১০টি গ্রামের মানুষের নিত্য ব্যবহার, ৪/৫টি হাই স্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাইমারী স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নদী পারাপার, বুধহাটা, পাইথালী, ব্যাংদহা, গাজীরমাঠ, কামালকাটি হাট-বাজারের মালামাল পারাপারে প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ব্রীজটি নির্মান করা হয়েছিল। ৩/৪ বছর আগে নদী খননের ফলে ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। তখন উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীদের সহযোগিতায় সাময়িক পারাপার ব্যবস্থা সচল রাখতে পাশে একটি কাঠের ব্রীজ/সাঁকো নির্মান করে।
ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজ পুনঃ নির্মানে এলজিইডি কার্যক্রম হাতে নেয়। মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নির্মীত কাঠের সাঁকো মানুষ চলাচল, বাই সাইকেল ও মোটর সাইকেল পারাপারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বছর না পেরুতেই গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১.৫৫ টার দিকে নদীর পানির স্রোতের মুখে ব্রীজটি সম্পূর্ণ ভাবে নদীতে ধ্বসে পড়ে এবং মুহুর্তের মধ্যে ব্যাংদহা-সাতক্ষীরার দিকে ভেসে যায়।
খবর পেয়ে শনিবার সকাল ৮ টার দিকে জাতীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থান পরিদর্শনে আসেন। এসময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, উপজেলা জামায়াত আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, এলজিইডি উপ সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমান দাশ, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক, অফিস সেক্রেটারী মাওঃ রুহুল কুদ্দুছ, শোভনালী ইউনিয়ন আমীর আলহাজ্ব দেছের আলী ও আশাশুনি প্রেস ক্লাবের সভাপতি, সেক্রেটারী, সাংবাদিকবৃন্দ, ইউপি সদস্য আঃ গফফারসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এমপি মহোদয় জেলা প্রশাসকের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। সাময়িক ভাবে কাঠের সাঁকো পুনঃ নির্মানে সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমান নিয়ে পরামর্শ শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করতে সিদ্ধান্তের কথা জানান হয়। ২/৩ দিনের মধ্যে সাঁকোর স্টিমেট তৈরি ও খরচের বিষয়টি জানাতে এলজিইডি প্রকৌশলীকে দায়িত্ব অর্পন করা হয়।

