
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে রনি নামের এক যুবক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখসহ সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর এলাকার মৃত ইমান আলীর ছেলে রনি হোসেন দীর্ঘদিন আগে একই এলাকার আলীপুর বাজারের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে জমির হামজা (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা ধার দেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও জমির টাকা ফেরত না দিয়ে নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে জমির, তার দ্বিতীয় স্ত্রী জবা সহ রনির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অপবাদ ছড়িয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে লজ্জিত হয়ে রনি তাদের বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ বিকালে জমিরের দ্বিতীয় স্ত্রী জবা খাতুন তার ব্যবহৃত ইমো নম্বর থেকে রনির সাথে যোগাযোগ করে। তিনি রনিকে জানান, জমির লজ্জার কারণে সরাসরি যোগাযোগ করছেন না এবং পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী এলাকায় তাদের নানা বাড়িতে আসতে বলেন।
এর প্রেক্ষিতে রনি তার ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে তাকে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হলে তিনি সন্দেহবশত ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
ইং- ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে বৈকারী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা জমিরসহ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন দুইটি মোটরসাইকেলে এসে রনির গতিরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়, তারা কোনো প্রকার বাকবিতণ্ডা ছাড়াই রনির মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয় এবং জমিরের নির্দেশে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে রনির ডান হাতের বাহু ও ডান পায়ের হাঁটুর নিচে হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
এসময় রনি চিৎকার করলে হামলাকারীরা তার মুখে ঘাস ঢুকিয়ে দেয় এবং মারধর অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ৪২ হাজার টাকা ও একটি রেডমি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং যাওয়ার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রনিকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত রনির বড় ভাই অহিদুজ্জামান (৩৭) বাদী হয়ে অভিযুক্ত জমির, তার দ্বিতীয় স্ত্রী জবা এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

