
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা শ্যামনগর ভূমি অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার সরোয়ার হোসেন প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেনের পরও বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষের অভয়ারণ্যে হিসাবে গড়ে উঠেছে। ঘুষ ছাড়া সেবা মিলছে না ভূমি অফিসে। দিনের পর দিন হয়রানিতে ভুগছে সেবাগ্রহীতারা। হয়রানিকারী ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও তূলনামূলকভাবে কোন ব্যবস্থা নেয়না জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের দূর্বলতা কোথায় জনমনে প্রশ্নঘুরপাক খাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ শ্যামনগর ভূমি অফিসের সহকারী সরোয়ার হোসেন অফিসে বসে ভূমি সেবার জন্য প্রকাশ্য গুনে গুনে ঘুষ নেওয়া একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশ হয়। প্রকাশ্য ঘুষ নেওয়া ঘটনাটি দ্রুত নেটিজেনদের কাছে পৌঁছালে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভ্যান করে এড়িয়ে যায়। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছে ভূমি অফিসের ঘুষের টাকাগুলো উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা ভাগ পায় যার ফলে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।
শুধু সরোয়ার হোসেন নয় ঘুষ নিয়ে প্রকাশ্য গণমাধ্যমে এসেছে কালিগঞ্জের চাম্পাফুল ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মুকিত, পাটকেলঘাটা উপ সহকারী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন, ইসলামকাটি অফিস সহকারী কামাল হোসনসহ ডজনখানেক ভূমি অফিসের কর্মকর্তা -কর্মচারীরা। প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহনের ভিডিও গণমাধ্যম প্রচার হওয়ার সত্বেও তূলনামূলক কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি জেলা প্রশাসন। ঘুষখোরদের প্রশয়ে রাজস্ব শাখার এমন কর্মকান্ডে হতাশ সাধারণ ভূমি সেবাগ্রহীতারা। গত মাসে ঢালাও সংবাদ প্রকাশিত হয় সাতক্ষীরার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শ্যামনগরের আটুলিয়ার আশরাফুউজ্জামানের ।তার পিতা ছিল একজন কৃষক।
২০ বছর চাকরিজীবনে ৬০ লাখ টাকা সরকারি বেতন ভাতা পেলেও সাতক্ষীরা শহরে ২ টি আলিশান বাড়ি তৈরি করছে যার মূল্য ৪ কোটি টাকা,সুলতানপুরে ৫০-৬০ লাখ টাক@ মূল্যে ৫ শতক আমবাগান ক্রয়, গ্রামে কয়েক একর কৃষি জমি ক্রয় করেছে। গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচারের পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বাচাঁতে কলারোয়া জালালাবাদে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি শ্যামনগর ভূমি অফিসের সহকারী সরোয়ারে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণও টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দিতে জোর চেষ্টা করছে এক উদ্ধর্তন কর্মকর্তা। নাগরিকের জনঢ় প্রশাসন নাকি ঘুষখোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাঁচাতে মরিয়া প্রশাসন প্রশ্ন উঠেছে।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, অফিসে বসে প্রকাশ্য ঘুষ নেওয়ার পরও যদি জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে এটা নেতিবাচক। ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষের সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে হবে। তারা সাধারণ মানুষের হয়রানি করে টাকা ছাড়া কাজ হয় না। সরোয়ারের মত ঘুষখোরদের প্রকাশ্য শাস্তি হওয়া উচিত না হলে জেলা প্রশাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।
সামাজিক সংগঠনের নেতা হাসানুর রহমান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে ভূমি অফিসের ঘুষ গুলো প্রকাশ্য আসছে। জেলা প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিলে এগুলো বন্ধ হবে।নামমাত্র পদক্ষেপে এদের দমন করা যাবে না। এরা হল লাঘব বোয়াল হয়ে গেছে। বেতনের বাইরে ঘুষের টাকা না হলে তারা মানসিক প্রশান্তি পায় না।
সাধারণ ভূমি সেবাগ্রহীতা আব্দুল করিম বলেন, ভূমি অফিসের হয়রানিতে আমরা জর্জরিত আমরা দুর্নীতিবাজ নায়েবদের শাস্তি দাবি করি
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মইনূল ইসলাম বলেন , সরোয়ারের প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য আমলে নিয়েছে। আরডিসিকে নির্দেশ দিয়েছি আগামী ৩ দিনের মধ্যো নেটিশ জারি করে তার সামায়িক বরখাস্ত করা হবে।

