
অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল ফিতর আসন্ন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে প্রতি বছর এই সময় প্রবাসীদের দেশে আসার ধুম পড়ে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক দেশগুলোতে থাকা প্রবাসীরা দেশে আসেন বেশি। তবে ইরান-ইসরাইল সংঘাত পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। আকাশপথ বন্ধ থাকায় এবার ঈদে প্রবাসীদের দেশে আসা অনিশ্চিত।
সরেজমিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, আগমনী টার্মিনাল ১ ও ২ অনেকটাই ফাঁকা। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবের কয়েকটি শহর থেকে অল্প সংখ্যক প্রবাসী এলেও সেই পরিচিত ভিড় নেই কোথাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত ঈদ ঘনিয়ে এলে বিমানবন্দর এলাকায় পা ফেলার জায়গা থাকতো না। একদিকে প্রবাসীদের আগমন, অন্যদিকে তাদের স্বজনদের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতো পুরো এলাকাজুড়ে। প্রবাসীদের বহনকারী ফ্লাইট অবতরণ করলেই অপেক্ষমাণ স্বজনদের চোখে-মুখে ফুটে উঠতো আনন্দের ঝিলিক।
ইমিগ্রেশন শেষ করে বেল্ট থেকে লাগেজ নিতে ট্রলির জন্য শুরু হতো দৌড়ঝাঁপ। মালামাল নিয়ে বের হয়ে কখন প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে—এই অপেক্ষায় উৎফুল্ল থাকতেন প্রবাসীরা। সেই দৃশ্য বিমানবন্দরের কর্মচারীদের কাছেও ছিল আনন্দের।
কিন্তু এবার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ঈদের এক সপ্তাহ আগে যেখানে আগমনী টার্মিনালে মানুষের ভিড়ে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়তো, সেখানে এখন যেন নীরবতা। নেই ট্রলি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, নেই প্রিয়জনকে বরণ করে নেওয়ার উচ্ছ্বাস। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ যেন সব কিছুই বদলে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন প্রবাসী আসলাম হক। তিনি বলেন, আমরা যারা মালয়েশিয়ায় আছি তারা অনেকেই ছুটি পেয়ে দেশে আসতে পারছি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসীরা আসতেই পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রবাসী হিসেবে আমি জানি পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট কতটা। ঈদের সময় সবাই বাড়ি ফিরতে চায়। কিন্তু এই পরিস্থিতি সত্যিই তাদের জন্য খুব কষ্টের।
একই ফ্লাইটে আসা ফজলুর রহমান বলেন, সৌদি, কাতার বা দুবাইয়ে থাকা ব্যক্তিদের জন্য খারাপ লাগছে। কিন্তু কিছু করার নেই। যুদ্ধ সব কিছু পাল্টে দিয়েছে। তাদের এ বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে।
জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে কিছু ফ্লাইট চালু থাকলেও যাত্রী সংখ্যা খুবই কম। অন্যদিকে দুবাই, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন থেকে প্রায় কোনও প্রবাসীই দেশে ফিরতে পারছেন না। এসব দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে।
বিমানবন্দরে কর্মরত এক কর্মকর্তারা জানান, এই সময়টাতে তাদের প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতে হতো। যাত্রী সামলাতে হিমশিম খেতে হতো অনেক সময়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। ঈদের সময় বিমানবন্দরে এমন নীরবতা তারা কল্পনাও করেননি।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, যুদ্ধের কারণে অনেক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তাই প্রবাসীদের আগমনও খুব কম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এমন অবস্থাই থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ফলে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে।
এদিকে চলমান এই সংঘাতে চার জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এর মধ্যে একজন বাহরাইন, একজন দুবাই এবং দুই জন সৌদি আরবে নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনও ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি।

