
নিজস্ব প্রতিবেদন:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস এবং এর পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এবং আইসিসিএডি (ICCCAD)-এর সহযোগিতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কালিগঞ্জ অফিসার্স ক্লাবে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। ‘Enhancing Disability Inclusion through Capacity Building, Advocacy, and OPD Strengthening in Coastal Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থার উপদেষ্টা ও সাংবাদিক ইশারাত আলী।
সংলাপে বক্তারা বলেন, আধুনিক সভ্যতায় প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেলেও এটি আজ পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য এক মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বা পলিথিন সহজে পচে না বা মাটিতে মিশে যায় না। ফলে শত শত বছর ধরে এটি মাটি ও পানির সাথে মিশে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে।
প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এটি শুধু জলমগ্নতা ও জলাবদ্ধতাই সৃষ্টি করছে না, বরং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও জলজ প্রাণীর জীবনকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বহু প্রাণী ও মাছ ভুলবশত প্লাস্টিক খেয়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়া প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়ায়, যা শ্বাসকষ্টসহ নানা মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে। গরম খাবার বা তরল প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলে তার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান খাবারে মিশে মানবদেহে প্রবেশ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবা অফিসার শাকিল আহম্মেদ বলেন, প্লাস্টিকের এই ভয়াবহ দূষণ রোধ করতে হলে আমাদের সচেতন হতে হবে এবং এর পরিবেশবান্ধব বিকল্পগুলো দৈনন্দিন জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত ব্যাগ, কাপড়ের থলে, কাগজের ব্যাগ এবং প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। দোকানপাট ও বাজারে প্লাস্টিকের মোড়ক বা ব্যাগের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পচনশীল বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্প সামগ্রী জনপ্রিয় করে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ রেজা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্চু এবং জনকল্যাণ সংস্থার পরিচালক মারুফ হাসান।
এছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আলমগীর হোসেন এবং সুবর্ণ নাগরিক উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সমন্বকারী রুবিয়া খাতুন। এ সময় অনুষ্ঠানে নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি সাংবাদিক সোলায়মানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বক্তারা প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সামষ্টিক সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লা ও বাজারে প্লাস্টিক বর্জন এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে গণসচেতনতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

