প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ৩:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসার গল্প

জীবন যুদ্ধের শুরু টা ছিল ২০১৬ সাল। শ্যামল শীল সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার নাটানা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারে ছিল মা, বাবা, ভাই ও ঠাকুমা। তার পিতা পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। পরিবারের প্রধান ছিলেন তার পিতা।তার পিতার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ শতক।
দুই ভাইয়ের পড়াশুনো বাবদ ও পরিবারের সকল খরচ
তার পিতার একার পক্ষে যোগাড় করা খুবই ছিল কষ্ট সাধ্য। এ জন্য শ্যামলের মাতা তার পিতার সহিত বাইরে অন্যের জমিতে কাজ করত। এভাবে ধীরে ধীরে তাদের পড়াশুনা ও পরিবারের খরচ বহন করত।২ ভাইয়ের ভিতর বয়সের পার্থক্য ছিল ৪ বছরের মত।
শ্যামল শীল ২০১৪ সালে এইচ,এন,এস,কে, টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি তে ভালো ফলাফল করেন। শ্যামল শীল ২০১৬ সালে আশাশুনি সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি তে আশানুরূপ ফলাফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সাতক্ষীরা প্যারাগন এডমিশন কোচিং এ ভর্তি হন।
তার পিতার ইচ্ছা ছিল একদিন তার ছেলে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। তার পিতা নিজ পরিবার ও শ্যামলের সকল খরচ বহন করেন।
অবশেষে শ্যামল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভিতর শ্যামল শীল ৯৮০ মেরিট লিস্ট ও ৬৪.১৪ স্কোর নিয়ে তিনি ইতিহাসে চান্স পান। এখান থেকে শ্যামল শীলের জীবন যুদ্ধের শুরু। অনেক কষ্ট করে তার পিতা চড়া সুদে লোন নিয়ে তাকে
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে।
এ দিকে শ্যামলের পরিবারে অভাবের তাড়নায় পরিনত হয়। অন্যদিকে শ্যামলের ভবিষ্যতে অন্য দিকে পরিবার। শ্যামল ঢাকায় থাকাকালীন টিউশন এর মাধ্যমে নিজের খরচ বহন করেন। পরিবারের অভাব এর তাড়নায় শ্যামল শীল লেখা পড়ার পাশাপাশি সাভার গার্মেন্টস এ চাকরি, যে কোন পার্ট টাইম, ফুল টাইম জব, কখনো লক্ষী বাজার, রায়সাহের বাজারে সবজির ব্যবসা করে নিজ খরচ ও পরিবারের নামক চাকা টা ঘুরছিল।এ দিকে শ্যামলের পিতা স্বপ্ন দেখে তার ছেলে চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরবে কিন্তু হঠাৎ যেন শ্যামলের
পিতার সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেতে লাগল। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে শ্যামলের পিতা ব্রোইন টিউমারের আক্রান্ত হন। তখন শ্যামলের পরিবারে খুবই কষ্ট দেখা দেয়। এমনত অবস্থায় শ্যামলের উপর সব চাপ এসে পড়ে। যেখানে পিতা-মাতার উর্পাজনে সংসার নামক চাকাটি ঘুরতে না। সেখানে শ্যামলের পিতা অসুস্থ হওয়ার পর সেই পরিবারটি ধবংশের মুখে পতিত হয়। এমনত অবস্থায় শ্যামল অন্যের দ্বারস্থ হয়। মানুষের সাহায্যে নিয়ে পিতার চিকিৎসা করান। হঠাৎ শ্যামলের পিতা পরলোকগমন করেন (২০২১ সালের ৭ ই জুলাই)। তখন পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাথে অভাব অনটনে পরিবারটি চলত থাকে। কিন্তু শ্যামলের জীবন যুদ্ধে কঠিন বাস্তবতা কে মেনে নিয়ে এগিয়ে যায়। তার পরিবারে এমন শোচনীয় অবস্হা হবে তা ত কল্পনাতীত।
শ্যামলের ভাই স্বপন শীল খুবই ভদ্র।স্বপন পরিবারের অভাব দেখে তিনি পিতার ন্যায় বাইরে কাজ করতে যান। এভাবে চলছে শ্যামলের পরিবার।
শ্যামল তার জায়গা থেকে বিন্দু মাত্র বিচলিত হননি। তিনি সাহস নিয়ে কঠিন বাস্তবতা অতিক্রম করেন। শ্যামল কঠিন বাস্তবতার কাছে নিজেকে বিলিয়ে দেন। শ্যামল বাস্তবতার কষা ঘাতে হয়ে ওঠে বাস্তববাদী।
২০২২ সালে ৩১ ডিসেম্বর শ্যামলের ঠাকুরমা ইহলোকে ছেড়ে পরলোক গমন করেন। এভাবে একের পর এক শ্যামলের পরিবার পতনের পথে ধাবিত হয়। কিন্তু শ্যামল তার পরিবার কে বাঁচাতে মানুষের শরনাপন্ন হয়। এভাবে শ্যামল তার পরিবার কে বাঁচিয়ে রাখছে। বর্তমানে শ্যামল শীল ডোসকা, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছে। তাই আমরা শ্যামলের ভবিষ্যত কামনা করি।সে যেন ভালে কিছু করতে পারে। শ্যামল যেন ভালো কিছু করার মাধ্যমে দেশ ও জনগনের কল্যানে আসে। সাতক্ষীরাবাসীর পক্ষ থেকে তার মঙ্গল কামনা করি।
https://satnadee.com/