মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো :সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মানপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ জোরপূর্বক ঘেরা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পথটি পুনরায় উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পথটির চারপাশে ঘেরা দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার বহু পরিবারকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই পথটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত পথ হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকাবাসী বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল ফারুকসহ শরিফুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, সোনাল্ল্যহ গাজী, নাজমা বেগম, সফুরা খাতুন, আমিনূর রহমান, সুরাত গাজী, মিজানুর রহমান, জালাল গাজী, সোহরাব গাজী, জাকের গাজী, বাকের গাজী, ফেরদাউস গাজী, জাহাঙ্গীর আলম, আরাফাতসহ আরও অনেকে।
তাদের ভাষ্য, "এই পথটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বছরের পর বছর আমরা এই পথ দিয়ে চলাচল করেছি। এখন জোরপূর্বক পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।"
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন আমিনুর রহমান (আলামিন)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি জানতে পেরেছি, আমার ভাইদের সঙ্গে শফি সরদার, আমিরুল সরদার, রবিউল ইসলাম, আবুল কাশেমসহ আমাদের পরিবারের সদস্যরা সোমবার (২০ জুলাই) সারাদিন ধরে এই ঘের দেওয়ার কাজ করেছেন। তবে এটাও সত্য যে, ওই পথ দিয়ে স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছেন।"
তার এই বক্তব্যকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ থাকার বিষয়টির স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট পথটি পুনরায় জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের পথটি পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।