নিজস্ব প্রতিবেদক, (শ্যামনগর): উপকূলীয় অঞ্চলের লোনা পানির জীবনসংগ্রামের মাঝেও এক নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছেন গাবুরার তরুণ উদ্যোক্তা এমদাদুল হক। সুন্দরবনের খাঁটি মধুর ঐতিহ্যকে পুঁজি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি এখন উপকূলের শত শত মৌয়ালদের (মধু সংগ্রহকারী) বড় ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন।
এক সময় দাদনদার আর মধ্যস্বত্বভোগীদের চরম শোষণে দিশেহারা হয়ে পড়তেন সুন্দরবনের মৌয়ালরা। জীবন বাজি রেখে বাঘ, কুমির আর সাপের সাথে লড়াই করে মধু সংগ্রহ করলেও, তারা পেতেন না সঠিক মূল্য। সেই চেনা চিত্রটাই বদলে দিতে শুরু করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা এমদাদুল।
সংকটে দাঁড়িয়ে নতুন পথ
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাবুরার এই তরুণ নিজেই উদ্যোগ নিয়ে সরাসরি মৌয়ালদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে মধু কেনা শুরু করেন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের চক্র না থাকায় মৌয়ালরা এখন তাদের শ্রমের সঠিক দাম পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, সুন্দরবনে মধু কাটার মৌসুমে অনেক মৌয়ালের যখন পুঁজির অভাব থাকে, তখন এমদাদুল তাদের অগ্রিম অর্থ দিয়ে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দিয়ে পাশে দাঁড়ান।
মৌয়ালদের চোখে এমদাদুল এক আস্থার নাম,স্থানীয় কয়েকজন মৌয়ালের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে মধু বিক্রি করার জন্য তাদের দূর-দূরান্তে যেতে হতো এবং অনেক সময় বাকিতে বা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতেন। কিন্তু এখন এমদাদুল সরাসরি তাদের কাছ থেকে মধু সংগ্রহ করায় তারা নিশ্চিন্তে সুন্দরবনে যাচ্ছেন।
"এমদাদুল আমাদের ঘরের ছেলের মতো। বনের মধু নিয়ে এসে এখন আর আমাদের দুশ্চিন্তা করতে হয় না। ও আমাদের যেমন সঠিক দাম দেয়, তেমনি বিপদে-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসে।"
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সুন্দরবনের খাঁটি মধু
উদ্যোক্তা এমদাদুল কেবল স্থানীয়ভাবেই মধু কেনাবেচা করছেন না, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ই-কমার্সের ব্যবহার করে সুন্দরবনের এই প্রাকৃতিক ও খাঁটি মধু পৌঁছে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ভেজালহীন মধুর নিশ্চয়তা পাওয়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তার এক বিশাল গ্রাহকশ্রেণি। নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে এমদাদুল হক বলেন, "উপকূলের মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বাঁচে। মৌয়ালদের এই কষ্ট আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার লক্ষ্য শুধু ব্যবসা করা নয়, বরং সুন্দরবনের আসল মধুর ব্র্যান্ডিং করা এবং আমার এলাকার মৌয়াল ভাইদের মুখে হাসি ফোটানো। তারা যেন তাদের কষ্টের সঠিক মূল্য পান, সেই চেষ্টা আমি আজীবন করে যাব।"