জি, এম নজরুল ইসলাম শ্যামনগরঃ প্রকৃতির অপার বিস্ময় সুন্দরবন যেখানে নিঃশব্দে বয়ে চলে নদী, খাল আর জীবনের ছন্দ।
কিন্তু সেই ছন্দে আজ ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও প্রভাবশালীদের ছায়া। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছিল দৈনিক সাত নদীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। আর সেই প্রতিবেদন যেন বন বিভাগকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক দাবি করেন, সুন্দরবনে অপরাধ নির্মূলে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। কিন্তু বাস্তবতা যেন তার উল্টো ছবি আঁকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবন এখন আর সবার জন্য নয়—এটি এখন প্রভাবশালী মহাজনদের কব্জায়। বেশি নৌকা ও মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে অভয়ারণ্যে ঢোকা যায় না। আমরা শোষিত হচ্ছি বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মী, মহাজন ও জলদস্যুদের হাতে। তাদের ভাষ্যমতে, পাস (অনুমতিপত্র) নেওয়া থেকে শুরু করে মাছ বা কাঁকড়া বিক্রির শেষ ধাপ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। এই অভিযোগের সত্যতা যেন মেলে গতকাল রাতের ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে,
যেখানে ৬টি নৌকা ও ৮ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। মাত্র ছয় ঘণ্টায় এমন সফলতা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে— তাহলে কি এতদিন সবাই চুক্তির আওতায় ছিল? এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বুড়িগোয়ালিনী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক। তিনি জানান, হলদেবুনিয়া অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ছায়া নদীর নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ ধরার অপরাধে ৬টি নৌকা ও ৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৮৬ কেজি সাদা মাছ জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযানে আরও অংশ নেন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ অ্যাসিস্ট্যান্ট এ বি এম হাবিবুল ইসলাম, মোঃ মেজবাউল ইসলাম এবং হলদিবুনিয়া অভয়ারণ্য কেন্দ্রের অন্যান্য স্টাফবৃন্দ।
সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি আমাদের জীবনের রক্ষাকবচ, জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষাকারী। এই বনকে রক্ষা করতে হলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে, প্রভাবশালীদের ছায়া সরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায়, সুন্দরবনের নিঃশব্দ কান্না একদিন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্তনাদে রূপ নেবে।