নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দৈনিক সাতনদী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাতক্ষীরার যুবদল নেতা সুমন। বুধবার (তারিখ) সাতক্ষীরা শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৈনিক সাতনদীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সুমন দাবি করেন, প্রকাশিত সংবাদে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয় এবং তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই ওই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুমন প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যমের কোনো সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে কয়েকজন অনলাইন সংবাদকর্মী ও ফেসবুকভিত্তিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগষ্ট দুপুরে শহর থেকে ১২টার দিকে ১০ পিচ স্বর্ণের বার নিয়ে ভোমরা স্থলবন্দর অভিমুখে যাচ্ছিল জনৈক যুবক। পথিমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও বাইপাসের সংযোগ স্থানে পৌছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা যুবদল নেতা সুমন স্বর্ণের বার বহনকারী যুবককে ধাওয়া দেয়। একটি লাল রং এর নম্বর প্লেট বিহীন গাড়ীতে সুমন ও রাজু স্বর্ণের বার বহনকারী যুবকের পিছু নেয়। স্বর্ণের বার বহনকারী যুবক যশোর অভিমুখে বাইপাস সড়ক দিয়ে দ্রুত গতিতে চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আবু সাঈদের তেলের পাম্পের সামনে গিয়ে সুমন স্বর্ণের বার বহনকারী যুবকে ধরে ফেলে। ধ্বস্তাধ্বস্তির এক পর্যায়ে যুবকের নিকট থেকে ১০ পিচ স্বর্ণের বার ছিনতাই করে নেয় সুমন ও তার সহযোগী। ধ্বস্তা-ধ্বস্তির সময় আশ-পাশের লোক জড়ো হতে থাকে ঘটনাস্থলে। মুহুর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে শহরে। শতাধিক লোক ঘটনাস্থলে হাজির হলে বাঁধে শোর-গোল।
দুটি যুবককে বেদম মারপিটের ভিডিও চিত্রও সাতনদীর হাতে এসেছে। সেখানে সাদা ক্যাপ পরিহিত অবস্থায় সুমনকে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে ট্রিপল নাইনে ফোন দিলে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এস আই আলমগীর কবির ঘটনাস্থলে পৌছান। তখন ঘড়ির কাটা ১২.৩০ মিনিট। থানায় ফিরে এস আই আলমগীর কবির ৪১৪ নম্বর একটি ডাইরি করেন। ডাইরিতে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২টি মোটর সাইকেল উদ্ধারের ঘটনা বর্ণনা করা হয়।
এ সংক্রান্ত সংবাদ দৈনিক সাতনদী পত্রিকায় প্রকাশিত হলে স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের খবর প্রকাশের পর যুবদল নেতা সুমনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর সব অপরাধ চিত্র সামনে আসে। খাটালের গরুর টাকা ছিনতাই, মাদক ব্যবসায় সিদ্ধ হস্ত বিগত দিনে তাঁতীলীগের ব্যানারে থাকা সুমন এখন যুবদলের মস্তবড় নেতা। খবর প্রকাশের জেরে সুমন সাতনদী সম্পাদককে হত্যার হুমকিও দেন যা বিভিন্ন ফেসবুকে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে।