জি,এম নজরুল ইসলাম শ্যামনগর: শিক্ষা যেখানে জাতি গঠনের ভিত্তি, সেখানে যদি নৈতিকতার ভিত নড়ে যায়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয় সমগ্র সমাজের জন্যই অশনিসংকেত। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অবশেষে তদন্তের আওতায় এসেছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা শিক্ষা অফিসার আবুল খায়ের সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী প্রোগ্রামার সিরাজুল ইসলাম, যিনি তদন্তে কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আরিফা এদিব চৌধুরীর কম্পিউটার সনদটি জাল যা জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (নেকটার)-এর সাবেক শাখা নট্রামস কর্তৃক ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই জাল সনদের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক তাঁকে নিয়োগ দেন এবং বেতন-ভাতা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক নিজেই জাল সনদ তৈরি করে অর্থের বিনিময়ে সুফিয়ান গাজী নামক এক ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ের কর্মচারী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এই অনিয়মের তালিকা এখানেই শেষ নয়—তদন্তে উঠে এসেছে আরও বহু অভিযোগ, যা বিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষে জেলা শিক্ষা অফিসার উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,
আমি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছি এবং যথাযথ রিপোর্ট প্রদান করব। এই তদন্ত শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা পুনরুদ্ধারের প্রয়াস। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল আশাবাদী— এই তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো মর্যাদা ও আস্থা।