আব্রহম লিংকন: সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন বনদস্যু বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিনজন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন আত্মসমর্পণ করেন।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ- কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সময় বনদস্যুরা একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ার গান জমা দেন।এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মিলিমিটারের পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা এবং এয়ারগানের ৪১৩ রাউন্ড গোলা উদ্ধার করা হয়েছে।উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকিও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতির অভিযোগ:- আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা। আর আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যুকে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।