
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বন বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে।
প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগে বিব্রত। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এসব অভিযোগ যাচাই করে বন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।
বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোঃ মহাসিন-এর প্রভাবেই শ্যামাপ্রসাদের অনিয়ম বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি একই অঞ্চলে বিভিন্ন পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
এদিকে দুদকের খুলনা অঞ্চলে তার বিরুদ্ধে আগের একটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি কৈখালী স্টেশনে যোগদানের পর থেকেই শ্যামাপ্রসাদ অবৈধভাবে মাছের পোনা আহরণ ও বিক্রির সাথে জড়িত। প্রতিদিন প্রায় ২৫টি নৌকা থেকে তিনি অর্থ আদায় করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
এছাড়া অনুমোদনের আগেই অবৈধভাবে মধু আহরণের অভিযোগও উঠেছে। এতে প্রকৃত মৌয়ালিরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম-এর সামনেও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমও তার প্রশ্রয়ে চলছে। প্রতিদিন বহু নৌকা থেকে অর্থ নেওয়ার বিনিময়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এছাড়া বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক-এর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং তার বিরুদ্ধেও দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বন বিভাগের একটি বড় অংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শ্যামাপ্রসাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। স্থানীয় বনজীবী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষও প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলমান অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ পাবে।