
২০১৫ ও ২০২১ সালের পৌর নির্বাচনের ফলাফল সামনে রেখে নতুন করে বিশ্লেষণ চলছে—পুরোনো ভোটের অঙ্ক কি এবারও প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো ইঙ্গিত দেবে, নাকি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৈরি হবে সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণ?
দুই নির্বাচনে দুই ধরনের ভোটচিত্র:
২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে বিএনপির তাসকিন আহমেদ চিশতি ১৬ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টির শেখ আজহার হোসেন পান ১২ হাজার ৮৭৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিম ফারুক খান মিঠু পান ১২ হাজার ৫৩২ ভোট।২০২১ সালের নির্বাচনে তাসকিন আহমেদ চিশতি আবারও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ২৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নাসিম ফারুক খান মিঠু পান ১৩ হাজার ২২১ ভোট এবং আওয়ামী লীগের শেখ নাসেরুল হক পান ১৩ হাজার ৫০ ভোট। মো. নুরুল হুদা পান ২ হাজার ৮৮৮ ভোট। ভোটার ছিলেন ৮৯ হাজার ২২৪ জন; ভোট পড়েছিল ৫৫ হাজার ৯২৬টি।অর্থাৎ ২০১৫ থেকে ২০২১ সালে তাসকিন আহমেদ চিশতির ভোট বেড়েছিল ৮ হাজার ৬১৮টি। অন্যদিকে নাসিম ফারুক খান মিঠুর ভোট বেড়েছিল ৬৮৯টি।
নাসিম মিঠুর ধারাবাহিক ভোট—আলোচনার একটি কারণ:
দুই নির্বাচনেই নাসিম ফারুক খান মিঠু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১২ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। ২০১৫ সালে ১২ হাজার ৫৩২ এবং ২০২১ সালে ১৩ হাজার ২২১ ভোট—এই ধারাবাহিকতা স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় তাঁর ব্যক্তিগত ভোটভিত্তি নিয়ে প্রশ্নটি সামনে এনেছে।তবে দুটি নির্বাচনের ফলাফল থেকেই কোনো প্রার্থীর ‘স্থায়ী ভোটব্যাংক’ নির্ধারণ করা যায় না। কারণ প্রার্থী, প্রতীক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটার উপস্থিতি প্রতিটি নির্বাচনে ভিন্ন হতে পারে।
চিশতির ভোট বৃদ্ধির পেছনে কী?
তাসকিন আহমেদ চিশতির ভোট ২০১৫ সালের ১৬ হাজার ৪৭০ থেকে ২০২১ সালে ২৫ হাজার ৮৮-তে ওঠে। এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির ব্যাখ্যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।কেউ এটিকে দলীয় ভোটের বিস্তার হিসেবে দেখেন, কেউ ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি সামনে আনেন। আবার স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় ২০২১ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের ভোটের কৌশল নিয়েও নানা বক্তব্য রয়েছে।তবে প্রকাশ্য নির্বাচনী ফলাফল থেকে কোনো নির্দিষ্ট দলের ভোট অন্য প্রার্থীর দিকে কতটা স্থানান্তরিত হয়েছিল—এমন নির্ভুল হিসাব করা সম্ভব নয়। ফলে এ ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক দাবি বা বিশ্লেষণ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন বাস্তবতা:
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির মো. আব্দুর রউফ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৩ ভোট পান এবং জামায়াতের মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।এই ফলাফল সাতক্ষীরা সদরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমান রাজনৈতিক ভোটচিত্র নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পৌর নির্বাচন এক নয়। সংসদীয় আসনের ভোটকে সরাসরি পৌরসভার সম্ভাব্য ভোট হিসেবে গণনা করা হলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
এবার বিএনপির সামনে যে প্রশ্নগুলো:
* সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের আলোচনায় তাই কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—
*দলীয় সমর্থনের বাইরে প্রার্থীর নিজস্ব ভোট কতটা?
* পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কেমন?
* অতীত নির্বাচনের ভোটের ধারাবাহিকতা কতটা প্রাসঙ্গিক?
* পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন ভোটার ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতের ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ কতটা কার্যকর?
* দলীয় সংগঠন ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার মধ্যে সমন্বয় কতটা সম্ভব?
পুরোনো ভোটের অঙ্ক বনাম নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ:
সাতক্ষীরা পৌরসভার আগের দুই নির্বাচনের ফলাফল একটি বিষয় স্পষ্ট করে—পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোটও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য, ২০১৫ বা ২০২১ সালের ভোটকে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা যায় না।তাই বিএনপির মনোনয়ন-সমীকরণে অতীতের ভোটের হিসাব যেমন আলোচনায় থাকবে, তেমনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক অবস্থান, প্রার্থীর জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির টিকিট কার হাতে যাবে তার উত্তর আসবে দলীয় সিদ্ধান্তে। আর নির্বাচনের চূড়ান্ত উত্তর দেবে পৌরবাসীর ভোট।
আগের দুই নির্বাচনে তাসকিন চিশতির ভোট বৃদ্ধির সঙ্গে জামায়াতের কৌশলগত অবস্থানের সম্পর্ক ছিল—এমন আলোচনা স্থানীয় রাজনীতিতে রয়েছে। কিন্তু এবার সেই সমীকরণ বদলে গেছে। জামায়াত সাতক্ষীরা পৌরসভায় একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আগের মতো জামায়াতের ভোট বিএনপির প্রার্থীর দিকে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না—বরং বিএনপি ও জামায়াতকে এবার সরাসরি ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
এখানেই বিএনপির মনোনয়ন-সমীকরণে ব্যক্তিগত ভোটের গুরুত্ব নতুন করে সামনে আসছে। কারণ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী না থাকলে তাদের সাবেক সমর্থকদের একটি অংশ কোন প্রার্থীর দিকে যায়, আর জামায়াতের নিজস্ব ভোট কতটা ধরে রাখে—এই দুই প্রবাহের সঙ্গে বিএনপির দলীয় ভোট ও প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভোট যোগ হয়ে তৈরি হবে নতুন হিসাব।
নতুন ও জটিল সমীকরন:
পাশাপাশি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি দলীয় প্রার্থী দিবে এটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত । অপরদিকে নিশিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের দলীয় সমর্থনে কোন ব্যাক্তিকে সরকার নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতে দিবেনা । তবে আওয়ামীলীগের সমর্থনে নির্দলীয় কোন প্রার্থী মাঠে থাকবে কিনা সেটাও দেখবার বিষয় ।সব মিলিয়ে পৌরসভায় আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পাটির ভোট ব্যাংক যে কোন নতুন সমিকরনের জন্ম দিতে পারে । আবার যদি এই দুটি দল কোন প্রার্থীকে সর্মথন দেয় তাহলে অপরাজেয় শক্তির উদ্ভব হবে । তাসের ঘরের মত চ’র্ন বিচুর্ন হয়ে যাবে যে কোন মহা সমীকরণ । এসব বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দলীয় মনোনায়ন দিতে পরে বিএনপি । এছাড়া পৌরসভায় জামায়তের এক প্রার্থী থাকবে সেটি প্রায় নিশ্চিত । এ ক্ষেত্রে সাতক্ষীরা পৌরসভার তৃতীয় কিম্বা চতুর্থ মুখী প্রার্থী থাকবে মা