
আবু রায়হান,পদ্মপুকুর,শ্যামনগর,সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ১১ নম্বর পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী চৌদ্দ রশি এলাকায় নদী ভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নদীর তীব্র স্রোত ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে এলাকার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি, রাস্তা এবং জনজীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী ভাঙনের কারণে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।উপকূলীয় শ্যামনগর অঞ্চলে অতীতেও জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় এবং নদী ভাঙনের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি, বেড়িবাঁধের দুর্বলতা ও নদী ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত নদী ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা, বেড়িবাঁধ মেরামত এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এলাকাবাসীর একটাই দাবি— “দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে উপকূলের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে।”