স্টাফ রিপোর্টার।।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তলব করা হয়।
এর মধ্যে ১৫ ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এসম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত বাল্যবিয়ের কুফল ও আইনগত দিক সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন ।
এ সময় প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত শ্বশুরবাড়িতে না যাওয়া এবং নিয়মিত মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার লিখিত অঙ্গীকার (মুচলেকা) দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীরা। একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের অভিভাবকেরাও।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত বলেন, এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করা হয় । মুচলেকা দিয়ে তাদের ক্লাসে ফিরানো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা অমান্য করলে পরবর্তীতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য রাকিবুর রহমান বাবলা ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর বাল্যবিবাহের এ তথ্যটি তুলে ধরে অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, তাদের স্ত্রী, বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ছেলে-মেয়েদের জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরার সই করা ওই নোটিশের পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)মাদ্রাসার সুপার ১৬ জনের মধ্যে ১৫ ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের কার্যালয়ে হাজির করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার আইনি পরিণতি ও এর শারীরিক-সামাজিক কুফল তুলে ধরেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষার্থীরা জানান, না বুঝে বাল্যবিয়ে করে তারা ভুল করেছেন। ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তারা সংসার জীবনে ফিরবেন না কিংবা শ্বশুরবাড়িতে যাবেন না।
মাদ্রাসায় নিয়মিত উপস্থিত থেকে পড়ালেখা শেষ করার ব্যাপারেও সবাই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিভাবকদের কাছ থেকেও অনুরূপ অঙ্গীকার নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমাতুজ জোহরা, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শাল্যে দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা নুরুল আলম, জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো: সাকিবুর রহমান বাবলা।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও অভিযোগকারী মো: সাকিবুর রহমান বাবলা জানান, জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বাড়ছে। কিছুদিন আগেই তালা উপজেলার ইসলামকাটি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও একইভাবে মুচলেকা নিয়ে তাদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা হয়।