# অর্পিত সম্পত্তির আপিল তামাদিতে খারিজ, সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্নের আশঙ্কা
# তালার পুটিয়াখালী মৌজার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া
# আপিল শুনানি ও তামাদি খণ্ডনের আবেদন না করার বিষয়টি উঠে এসেছে নথিতে
বিশেষ প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণসংক্রান্ত একটি মামলায় সরকারের পক্ষে দায়ের করা আপিল তামাদি আইনে খারিজ হওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন সামনে এসেছে। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাঠানো ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সরকারি পত্রে মামলার ধারাবাহিকতা, আপিল খারিজের কারণ এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি নথিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের ৮০৯/২০২১ নম্বর মামলায় সম্পত্তি অবমুক্তির পক্ষে রায় ও ডিক্রি হওয়ার পর সরকারপক্ষ থেকে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালে ৯৯/২০২৫ নম্বর আপিল মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি আপিলটি তামাদি আইনে খারিজ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসকের চিঠিতে এ পরিস্থিতিতে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালার পুটিয়াখালী মৌজার সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া:
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পত্রে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পুটিয়াখালী মৌজার এসএ ২৩ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এবং এসএ ৬৮৯ নম্বর দাগের সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ তালিকা থেকে অবমুক্ত করার দাবিতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তালা উপজেলার বড়কাশিপুর এলাকার মৃত হরেন্দ্র নাথের ছেলে দিগেন্দ্র নাথ মজুমদারকে।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের ৮০৯/২০২১ নম্বর মামলায় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল রায় এবং ২৪ এপ্রিল ডিক্রি প্রদান করা হয়। ওই রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালে ৯৯/২০২৫ নম্বর আপিল মামলা দায়ের করা হয়।
তবে আপিল দায়েরের পর মামলাটির নিষ্পত্তি সরকারের অনুকূলে হয়নি। ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারির আদেশে আপিলটি তামাদি আইনে খারিজ হয়ে যায়। ফলে সম্পত্তি-সংক্রান্ত মামলায় সরকারের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
শুনানি ও তামাদি খণ্ডনের আবেদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন:
জেলা প্রশাসকের পত্রে আপিল মামলার কার্যক্রম পর্যালোচনার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আপিলকারীপক্ষের আইনজীবী শুনানি করেননি এবং তামাদি খণ্ডনের জন্য কোনো আবেদনও করেননি। নথিতে আদালতের আদেশের বরাতে এসব বিষয় উল্লেখ করে আপিল খারিজ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সাধারণভাবে, নির্ধারিত আইনগত সময়সীমা অতিক্রম করে মামলা বা আপিল দায়ের করা হলে তামাদি আইনের প্রশ্ন ওঠে। যথাযথ ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তামাদি খণ্ডনের আবেদন করা যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলায় এমন আবেদন না করার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের চিঠিতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
সরকারি সম্পত্তি-সংশ্লিষ্ট মামলায় রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নিয়োজিত আইনজীবীদের ওপর বর্তায়। সে ক্ষেত্রে আপিলের শুনানি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত আবেদন যথাসময়ে করা হয়েছিল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসকের পত্রে উল্লিখিত পর্যবেক্ষণ থেকে মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ:
জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত পত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পত্রের সঙ্গে মামলার বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট নথির উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে আপিল খারিজের ঘটনায় দায়িত্ব নিরূপণ এবং সরকারি স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় আনা হয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসকের চিঠিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলেও ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কোনো বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নথিতে তথ্য নেই। একইভাবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের তথ্যও এই পত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
সরকারি সম্পত্তির মামলা পরিচালনায় সময়সীমা, শুনানি এবং প্রয়োজনীয় আবেদন যথাযথভাবে নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে দায়িত্ব নির্ধারণ এবং আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে অভিযুক্ত আইনজীবী উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত মতামত দেন। মতামতে তিনি জানিয়েছেন, অর্পিত সম্পত্তির মামলা নম্বর ৮০৯/১২ মামলার রায় ১৮/৪/২৩ ও ডিগ্রী ২৪/৪/২৩ তারিখ সরকার পক্ষে আইনজীবী এডভোকেট প্রবীর কুমার কান্তি ভি পি মামলার আপীলের ক্ষেত্রে ভিপি আইনের ১৮ ধারা ৪ উপ ২ ধারায় বলা আছে রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। সেক্ষেত্রে তামাদি আইনে ৫ ধারা কোনভাবে প্রযোজ্য নয়। আমি যোগদান করিয়াছি ৪/৫/২৫ তারিখে। যোগদানের পর তৎকালীন এডিসি রাজস্ব মইনুল স্যার তার কথা অনুযায়ী আপীল ৯৯/২৫ মামলাটি করা হয়। এর জন্য দায়ী এডভোকেট প্রবীর কুমার কান্তি। তার বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা হয়নি। আমাকে কোন কিছু জানানো হয়নি। নোটিশ করা হয়নি।