মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী রইচপুর ব্রিজের দুই পাশে দীর্ঘদিনের বেহাল দশায় যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই ব্রিজের দুই পাশে কাদা-পানি জমে থাকে। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও বাইসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলার পরিবেশও থাকে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা।জানা গেছে, এই রইচপুর ব্রিজের ওপর দিয়েই আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। এছাড়া এলাকাটি মৎস্য চাষ ও কৃষিনির্ভর হওয়ায় স্থানীয় ফসল ও উৎপাদিত মালামাল পরিবহনের একমাত্র প্রধান পথ এটি। সড়কটির এহেন নাজুক অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ কৃষক।এমন পরিস্থিতিতে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে আজ (০৪ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকালে সাময়িক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুব বিভাগ। স্থানীয় যুব কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে সংগঠনটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা একত্রিত হয়ে ব্রিজের দুই পাড়ের কাদা সরিয়ে এবং ইট দিয়ে সাময়িকভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেন।এ বিষয়ে রইচপুর যুব বিভাগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, "জনসাধারণের দুর্ভোগ ও প্রতিনিয়ত ঘটা দুর্ঘটনা কমাতে আমাদের সংগঠনের নিজস্ব চেষ্টায় এই সাময়িক সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি ও সাতক্ষীরা পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোর দাবি জানাচ্ছি— অতি দ্রুত যেন রইচপুর ব্রিজের উভয় পাশে স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।"
উক্ত স্বেচ্ছাশ্রম ও সংস্কার কাজের সময় উপস্থিত ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমীর হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসে হাসানুজ্জামান সবুজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং যুব কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।