
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার সদর উপজেলার মাগুরা এলাকার একটি পুকুর থেকে মুদির দোকানী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার(২৫) এপ্রিল রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের থানাঘাটা বউবাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিথীকা সাধু (৫৩) সদর উপজেলার মাগুরা এলাকার মৃত. বিশ্বনাথ সাধুর স্ত্রী। তিনি বউবাজার নামে একটি গ্রাম্যবাজারে একজন মুদি দোকানী ছিলেন।
বিথীকা সাধুর ভাইপো গোপাল সাধু বলেন, পিসি বিথিকার তিন ছেলে মেয়ে । বড় মেয়ে সম্পা সাধু পাটকেলঘাটার টাটা ক্রপ কেয়ার কোম্পানির মালিক কেশব সাধুর স্ত্রী , মেঝে মেয়ে রীতা সাধু তালার ব্যাবসায়ী সদানন্দ সাধুর স্ত্রী , ছোট ছেলে কার্তিক সাধু বড় ভাগ্নিপতি কেশব সাধুর ওখানে কর্মরত ।
২ বছর আগে পিসির স্বামী বিশ্বনাথ সাধু মারা যাওয়ার পরে বাড়ির পাশে বউ বাজারে কার্তিক স্টোর নামে একটি মুদি দোকান চালান তিনি । সেখানে বেচাকেনা শেষে প্রতিদিন রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরেন পিসি । গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান তিনি ।
এরপর ছেলে কার্তিক সাধু মাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকে । খোঁজা খুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মায়ের মরাদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় সে। এরপর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ।
প্রতিবেশি মায়া সাধু বলেন , তাদের এলাকায় বেশকিছু মাদকসেবী বকাটে যুবক ঘোরফেরা করছিল কয়েকদিন ধরে । বিথিকা সাধুর গলায় স্বর্ণের চেইন ও কানের দুলের দিকে নজর ছিল তাদের । মাদক সেবীরা তাকে ছিনতাই করার পরে এই হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলে ধারনা করছেন তিনি ।
স্থানীয়রা জানায় , বর্তমানে বউবাজার এলাকায় মাদকসেবীদের উপদ্রপ বেড়ে চলেছে । মাদকসেবীরা ছিনতাইকালে তাদের চিনে ফেলার ভয়ে বিথীকা সাধুকে হত্যা করে ভারী বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখ থেতলে দিয়েছে। ওই সময় তারা কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে জানান তারা ।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরাদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ।নিহতের মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যা কান্ডের ঘটনা । আজ সোমবার( ২৬ এপ্রিল ) সকালে একজনকে থানা হেপাজতে নেওয়া হয়েছে । বর্তমানে তার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে । রিপোর্ট লেখা পর্যান্ত এঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছিল ।