নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি সাকিলের চায়ের দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মাহফুজের নেতৃত্বে একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, যুবদল নেতা মাহফুজসহ ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে গেলে সাকিল বলেন, এল্লারচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আমরা বসবাস করি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমার শ্বশুর সরকারী ওই জায়গায় চায়ের দোকান দিয়ে জীবীকা নির্বাহ শুরু করেন। দোকান করার ৬/৭ বছর পর দোকানে দক্ষিণ পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সেখান থেকেই মুসুল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। ২০১৭ সালে আমার শ্বশুরের দোকানের উত্তর পাশে একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারিত হয়। এরপর আমার শ্বশুরের দোকানটি নিয়ে আমি চায়ের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছি। এছাড়া আমি ফিংড়ী ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি হওয়ার পর দোকানের উপরে দলীয় সাইনবোর্ড দিয়ে সাংগঠনিক কাজও সম্পাদন করছি।
তিনি আরো বলেন, গত ২৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রডসহ আমার চায়ের দোকানে প্রবেশ করেন। এ সময় আমাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। পাশাপাশি দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
সাকিল অভিযোগ করে বলেন, তারা আমার দোকান গুড়িয়ে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এতে আমার দোকানের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্সতি হয়েছে। এছাড়া দোকান থেকে আনুমানিক ১০ হাজার টাকার মালামাল, ক্যাশে থাকা দুই হাজার টাকা এবং আমার পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে গেছে তারা। যাওয়ার সময় আমার প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখন তারা বলছে ওই জায়গা বেড় দিয়ে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা করবেন। একজন ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে মাদ্রাসা নির্মাণ করা যাবে এটি কোন আইনে আছে? আর সরকারী জায়গায় নির্মিত দোকান প্রয়োজনে সরকার উচ্ছেদ করবে। তাহলে অভিযুক্তরা কেন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করলো?আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে এর বিচার চাইছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল মেতা মাহফুজ বলেন, আল্লাহ ও রাসুলকে সন্তুষ্ট করার জন্য এলাকাবাসীর সাথে আমি ভাংচুর করতে গিয়েছিলাম। মাদ্রাসা করার জন্য তাকে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হলেও সে আমাদের কথা শোনেনি। তাই ভাংচুর করা হয়েছে।
ফিংড়ী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চায়ের দোকান ও দলীয় কার্যালয়ের আড়ালে শাকিল মাদক ব্যবসা, জুয়া ও চোরাকারবারীর কাজ করছিলো। এতে মসজিদের মুসুল্লিদের অসুবিধা হচ্ছিল। তাছাড়া সে আমাকে গালি দিয়েছিল। এজন্য আমি ভাংচুরে অংশ নিয়েছিলাম।
ফিংড়ী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক নাঈম বলেন, আধিপত্য বিস্তার এবং বিশেষ কারণে একটি মহল সাকিলের জীবিকার একমাত্র উৎসটি ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি এটির ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি।
সাতক্ষীরা থানার এএসআই সোহেল বলেন, এ ব্যাপারে সাকিল একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।