নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ, অনধিকার প্রবেশ ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ।
শনিবার (২৫ জুলাই) সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি প্রতিপক্ষ নাসরিন, কুলছুম ও রবিউল গংদের আনা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ বলেন, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রতিপক্ষ নাসরিন, কুলছুম, রবিউলসহ তাদের সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর দখলীয় সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং মূল্যবান গাছপালা কেটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গত ৩ মে দ্রুত বিচার আদালতে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০–৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে সেটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মামলাটির দ্রুত বিচার নং-৩১/২৬, জি.আর নং-১৮১/২৬ এবং সাতক্ষীরা সদর থানা মামলা নং-১৪ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এ বিষয়ে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ‘সত্যের সন্ধান’ নামে একটি ফেসবুক পেজে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে তাঁদের ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তাঁদের সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রতিপক্ষ রবিউল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে আদালত নির্দেশ দেন যে, প্রাচীরের বাইরের রাস্তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কেউ কারও দখলীয় সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করবে না। বর্তমানে আদালত ও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই রাস্তা উন্মুক্ত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বলে তিনি দাবি করেন।
অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ বলেন, তাঁর দায়ের করা মামলা থেকে রক্ষা পেতে প্রতিপক্ষ নিজেরাই বিচুলির গাদায় আগুন দিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় এক সাক্ষী পরবর্তীতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট দিয়ে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া তাঁর মামলার কয়েকজন আসামির আত্মীয়-স্বজনও আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন বিষয় স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সক্রিয় সদস্য, ইয়ং বলাকা ক্রীড়া চক্রের সভাপতি এবং সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে পেশাগত, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি অন্য স্থানের একটি মারামারির ঘটনাতেও তাঁদের মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ সংবাদকর্মীদের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকি বন্ধ করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।